এই সময়, চন্দ্রকোণা: বৃষ্টির বিরাম নেই। তার জেরে মরা নদীও ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তার রেশ গিয়ে পড়েছে নদী সংলগ্ন খালগুলিতেই। চন্দ্রকোণার ক্ষীরপাইয়ের কেঠিয়া খালে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। ইতিমধ্যেই খালের ভাঙন গ্রাস করেছে বহু কৃষকের জমি। খাল-পাড়ের রাস্তাও তলিয়ে গিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাঁধ দিয়ে ভাঙন রোখা না গেলে সব হারিয়ে পথে বসতে হবে তাঁদের। যদিও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কেঠিয়া খালের ভাঙন রুখতে বাঁধ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলই।
কেঠিয়া খালের উপর রয়েছে সিধো-কানহো ব্রিজ। ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নদীর এক পাশে রয়েছে চাষের জমি। চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের মানিককুন্ডু গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশকুলি গ্রামের কৃষকদের জমি রয়েছে সেখানে। এ বারও সেখানে চাষ করেছেন কৃষকরা।
কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে কেঠিয়া খাল যেন সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। বৃষ্টির দাপটে ফুলে ফেঁপে উঠেছে খালটি। পাড়ের বেশ কয়েকটি গাছ তলিয়ে গিয়েছে। এমনকী জমিতে যাওয়ার রাস্তাটিও ধসে গিয়েছে। এক কথায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই জমিতে কাজ করতে যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
ভাঙনের জেরে আগেই কাশকুলি গ্রামের আট-দশ জন কৃষকের চাষের জমি তলিয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সমীর পান নামে এক কৃষক বলেন, 'বছর সাতেক আগে একশো দিনের কাজে একবার অস্থায়ী ভাবে পাড় বাঁধানো হয়েছিল। তারপর থেকে ভাঙন ঠেকাতে কেউ কোনও উদ্যোগ নেয়নি। এ বছরই আমার চার কাঠা জমি তলিয়ে গিয়েছে। এখানকার কৃষকদের চাষটুকুই সম্বল। নতুন সরকারের কাছে আবেদন বর্ষা মিটলে বাঁধ বাঁধার কাজ করা হোক।' সঞ্চয় ঘোষ বলেন, 'এখন যেখানে নদী দেখছেন আগে তার মাঝখানে চাষের জমি ছিল। নদীর গতিপথ বদলে গিয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সব জমি তলিয়ে যাবে।'
ভাঙন রোধে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন চন্দ্রকোণার বিধায়ক সুকান্ত দোলই। তিনি বলেন, 'বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। কেঠিয়া নদীর ভাঙন বহু বছরের সমস্যা। বিগত সরকার এ নিয়ে গুরুত্ব দেয়নি। কৃষকদের কথা ভাবেনি তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রশাসন ও সেচ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। দ্রুত পাড় বাঁধার ব্যবস্থা করা হবে।'