এই সময়: পুজোর আর মাস দেড়েকও বাকি নেই। তার আগে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট, ধর্মতলা থেকে শুরু করে ইএম বাইপাসের ধারে বিভিন্ন হাসপাতালের কাছাকাছি একের পর এক হোটেলে তালা পড়ছে। কারণ, তাদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। যে কোনও সময়ে মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইন’–এর মতো আরও একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কিন্তু এই হোটেলগুলো থেকেই আয়ের সংস্থান হয় কয়েক হাজার মানুষের। ফলে পুজোর আগে মহা দুশ্চিন্তায় মহম্মদ আলাউদ্দিন, ফিরোজ় আলি, সনাতন চন্দের মতো অনেকেই।
মঙ্গলবার পর্যন্ত কলকাতার ১৬টি বরোর ৯১৯টি হোটেল–লজ–গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। বুধবার আরও ৮১টি হোটেলের লজিং ও ফুডিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে কলকাতায় নথিভুক্ত প্রায় ৩,৬০০ হোটেল–লজের মধ্যে এক হাজারটি বন্ধ হয়ে গেল অনির্দিষ্ট কালের জন্য। বুধবার পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘কলকাতায় আমরা মোট এক হাজারটি ফুডিং ও লজিং হোটেল বন্ধ করে দিয়েছি। তালিকা আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘আমাদের নজরদারির পরেও কিছু হোটেল মালিক নিয়ম ভেঙে বেআইনি ভাবে চালাচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মধ্য কলকাতার মারকুইজ় স্ট্রিট, মির্জ়া গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, লেনিন সরণি, এসএন ব্যানার্জী রোডেই রয়েছে বেশিরভাগ হোটেল। ‘মারকুইজ় হোটেলে’র মালিক মহম্মদ আলাউদ্দিন ওরফে ভোলা বলেন, ‘পুজোর আগে এই সময়ে হোটেলে ঘর পাওয়া যেত না। আর এখন আমাদের এই সব এলাকায় সব হোটেলের ঘর সন্ধ্যার পরে আলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আগের মতো লোকও আসছে না। কারণ, সবাই জেনে গিয়েছে হোটেল বন্ধ।’
মধ্য কলকাতার অন্যতম হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন ‘মারকুইজ় স্ট্রিট অ্যান্ড ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি মনতোষ সাহা এবং সম্পাদক মনতোষ সরকার বলেন, ‘রাজ্য সরকার এবং পুরসভা আমাদের যে যে নিয়ম মেনে চলতে বলবে, আমরা তাই মেনে চলব। তাতে এ বার পুজোয় হোটেল খুলতে যদি নাও পারি, সব ব্যবস্থা করে সামনের পুজোয় হোটেল খোলা হবে। তবে নিয়ম মেনেই যাবতীয় কাজ হবে।’ এই রকম ফুডিং ও লজিং হোটেলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন ফিরোজ় আলি, সনাতন চন্দরা। তাঁদের কথায়, ‘পুজোর আগে মাসিক আয়ের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা বিপদে পড়লাম। এখন আমাদের বিকল্প পেশার খোঁজ করতে হবে।’
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এক হাজারটি বন্ধ হোটেলের মধ্যে ৪২টি হোটেল–লজের বিরুদ্ধে ছোটখাটো অনিয়মের অভিযোগ আছে। তারা সেগুলি সংশোধন করে নিচ্ছে। নিয়ম মানলে আবার পরিদর্শন করে তাদের খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। বাকি ৯৫৮টি হোটেল–লজ কোনও নিয়মকানুনের ধার ধারেনি। ফলে আইনের গেরো কাটিয়ে, এই সমস্ত হোটেলের দরজা পুজোর আগে খোলার সম্ভাবনা নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গাফিলতির অভিযোগ যাঁদের বিরুদ্ধে উঠেছে, তাঁরা কেউ ছাড় পাবেন না।’
কী কী গাফিলতি ধরা পড়েছে এই সমস্ত হোটেলে? তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, কোথাও অগ্নিনির্বাপণের ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই, কারও হোটেল ব্যবসার লাইসেন্স নেই, কারও বিদ্যুৎ সংযোগও বেআইনি, কোথাও আবার বেরনোর জন্য বিকল্প কোনও রাস্তা নেই।