• হাতি তাড়ানোর টাকা কই! ক্ষোভ বাড়ছে জঙ্গলমহলে
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, খড়্গপুর: হাতি তাড়ানোর পরেও টাকা না-মেলায় ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে হাতি মনিটরিং টিম বা হুলা পার্টির সদস্যদের মধ্যে। অভিযোগ, কোনও রেঞ্জে পাঁচ-ছ'মাস টাকা মেলেনি তো কোনও রেঞ্জে টাকা মেলেনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। ক্ষিপ্ত হুলাপার্টির সদস্যরা মঙ্গলবার খড়্গপুর ডিভিশনের কলাইকুন্ডা রেঞ্জে বিক্ষোভও দেখান। তাঁদের সঙ্গে শামিল হন গাড়ির মালিকরাও। বনদপ্তরের আধিকারিকরা দ্রুত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। উল্টে বিক্ষোভকারীরা জানিয়ে দেন, মুখের কথায় চিড়ে ভিজবে না। আগে টাকা দিতে হবে। শুধু টাকা দেওয়াই নয়, এরপর থেকে হাতি তাড়ানোর পারিশ্রমিকও বাড়াতে হবে। টাকা না-মেলায় রেঞ্জ অফিসে তালাও লাগিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।

    বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এটা পুরোনো সরকারের বকেয়া। প্রায় এক বছর ধরে হাতি তাড়ানোর জন্য টাকা না মেলায় সমস্যাটি তৈরি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায়। ফলে ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে তৃণমূল আমলের বনমন্ত্রী, জঙ্গলমহলের বাসিন্দা বিরবাহা হাঁসদার উপরেও। বিক্ষোভকারীদের অনেকেরই অভিযোগ, প্রাক্তন বনমন্ত্রীই গরিব মানুষের টাকা আটকে রেখেছেন। কারও অভিযোগ, ভুয়ো ভাউচার দিয়ে এতদিনে হয়তো টাকা তোলাও হয়ে গিয়েছে।

    এ বিষয়ে অবশ্য দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বর্তমান বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওঁরাও। বুধবার ঝাড়গ্রামের এক অনুষ্ঠানে এসে বনমন্ত্রীও পরোক্ষে জানিয়েছেন, বিগত সরকার নানা সমস্যা তৈরি করে রেখেছিল। বনমন্ত্রী বলেন, 'হুলা পার্টি-সহ সকলেই সমস্যার মধ্যে ছিলেন। ধীরে ধীরে সে সব সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। আমাদের কিছুদিন সময় দিন। আবার বনদপ্তরের পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনব।' উল্টোদিকে এটা বিগত সরকারের বকেয়া নয় বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা। তাঁয় দাবি, 'আগে যদি টাকা না-দিতাম তা হলে আগেই তো বিক্ষোভ দেখিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিত। তখন তো তারা কিছু করেনি। এখন পাচ্ছে না বলেই তালা ঝুলিয়েছে। আমরা সব সময়ে বলতাম, নিচুতলায় আগে বেতন দিতে হবে। এখন ওরা কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতায় থেকেও টাকা দিতে পারছে না, এটাই তার প্রমাণ।'

    বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে হাতি অন্যতম একটি বড় সমস্যা। কারণ, দলমার দামালরা আর দলমায় না-ফিরে দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলকেই স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। রাত হলেই খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছে মাঠে। খেয়ে, পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করছে ফসল। আবার কখনও গ্রামেও ঢুকে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি ভাঙছে। ফলে একটি জায়গায় হাতি থেকে গেলে সেই এলাকার ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। সে ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চাষিরা। তাই অভিযান চালিয়ে হাতির দলকে জঙ্গলে ঢোকানোর চেষ্টা করে বনদপ্তর। কখনও এক জায়গা থেকে অন্যত্রও সরিয়ে দেওয়া হয়। আর সেই কাজের জন্য প্রয়োজন হয় হাতি মনিটরিং টিম বা হুলাপার্টির সদস্যদের। কিন্তু প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পারিশ্রমিক না-মেলায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যে সব গাড়ি হুলাপার্টির সদস্যদের নিয়ে যায় সেই গাড়ি ভাড়ার টাকাও না মেলায় বিক্ষোভে যোগ দেন গাড়ি-মালিকরাও। টাকা না মিললে আর হাতি তাড়ানো অভিযানে যাবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

    অন্যদিকে জঙ্গলমহলের চাষিদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। হাতির হানায় ফসলের যে ক্ষতিপূরণ দেয় বনদপ্তর তা বর্তমান বাজার মূল্যের থেকে কম বলে অভিযোগ। ফলে ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির দাবিও উঠছে। এ ব্যাপারে বনমন্ত্রী বলেন, 'মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে। বিষয়টি জানি। আমরা ধীরে ধীরে সমস্ত দাবি পূরণ করার চেষ্টা করছি।'

  • Link to this news (এই সময়)