• অলিম্পিয়াডে সোনা জয় আরণ মাইতির, ইতালিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সুমন ঘোষ, খড়্গপুর

    আন্তর্জাতিক মেধা অন্বেষণ মঞ্চেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছে গেল খড়্গপুরের দশম শ্রেণির ছাত্র আরণ মাইতি। তিনটি বিষয়ের মধ্যে দু'টিতেই পেল সাফল্য। একটি পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে পেল স্বর্ণপদক। আর একটিতে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ। সম্প্রতি ইতালির তুরিনে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডে খড়গপুরের ছাত্রের এমন সাফল্যে গর্বিত গোটা দেশ। ইতালি থেকে ফেরার পরে দিল্লির পৃথ্বী ভবনে আরণকে সংবর্ধনা জানান কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রানা। প্রসঙ্গত, ওই অলিম্পিয়াডে ভারতীয় দলের প্রতিনিধিরা চারটি সোনা, তিনটি রুপো ও দু'টি ব্রোঞ্জ জিতেছে।

    আট ২০ থেকে ২৭ অগস্ট দিনের ওই অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ৪১টি দেশের নবম থেকে দ্বাদশ (অনূর্ধ্ব ১৮) শ্রেণির চার জন করে পড়ুয়া যোগ দেয়। সূত্রের খবর, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বসেছিল ভারতের ১৮ হাজার পড়ুয়া। নির্দিষ্ট মাপকাঠির নিরিখে প্রথম ২৫ জনকে বেছে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবির হয় ভদোদরার মহারাজা সায়াজিরাও ইউনিভার্সিটিতে। সেখান থেকে চার জন মেধাবী পড়ুয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় আন্তর্জাতিক স্তরে। সেখানেও দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে আরণ।

    মূলত, মেধা যাচাই করা হয় তিনটি বিষয়ে আর্থ সিস্টেম প্রজেক্ট, ইন্টারন্যাশনাল টিম ফিল্ড ইনভেস্টিগেশন ও একশো নম্বরের লিখিত ও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা। আর্থ সিস্টেম প্রজেক্টে আরণের বিষয় ছিল ক্লাইমেটিক অ্যান্ড এনার্জি ফিডব্যাক অব গ্লেসিয়ার রিট্রিট। তাতেই প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক জিতে নেয় আরণ। আর ইন্টারন্যাশনাল টিম ফিল্ড ইনভেস্টিগেশনের বিষয় ছিল, ইতালির মন্ট ডে লা সাক্সে পাহাড়ের ল্যান্ডস্লাইড স্টাডি। তাতে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ব্রোঞ্জ জেতে।

    আরণের বাবা সোমনাথ মাইতি খড়গপুর আইআইটি-র কর্মী। তিনি বলেন, 'ছেলের সাফল্যে তো ভালো লাগবেই। তবে এই সাফল্য থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, আর্থ সায়েন্স থেকে টিম ওয়ার্ক- সবেতেই আরণ পারদর্শী। তবে ও যাতে আরও এগিয়ে যেতে পারে সে ব্যাপারে আমরা সব দিক দিয়ে চেষ্টা করছি।' আরণের মা কাবেরী গঙ্গোপাধ্যায়ও ছেলেকে সব সময়ে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি সাহায্য করেন। আরণ খড়ঙ্গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে। খড়াপুর ক্যাম্পাসের ডিএভি মডেল স্কুলের ছাত্র সে।

    ছোট থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিজ্ঞানচর্চাতেও আরণের আগ্রহ। সে জন্য সে পরিশ্রমও করে অল্প বয়স থেকেই। যতক্ষণ না কোনও বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করছে, ততক্ষণ বাবা-মা থেকে শিক্ষক সকলের কাছেই সেই বিষয় নিয়ে জানতে চায়। তার এই বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা ও পরিশ্রমই আন্তজাতিক মঞ্চে সাফল্যের প্রধান কারণ বলেই মনে করেন তাঁর বাবা। আরণের সাফল্যে বেজায় খুশি তাঁর স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। খড়াপুর আইআইটি-র এক কর্মীর ছেলের বিশ্ব-মঞ্চে এমন সাফল্যে খুশি আইআইটি কর্তৃপক্ষও।

  • Link to this news (এই সময়)