১০ হাজার ঢাকের তালে ইডেনে পুজোর মেগা উদ্বোধন, চক্ষুদান করতে পারেন মোদী
আজ তক | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন ধাঁচে দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের সাক্ষী থাকতে চলেছে বাংলা। এবার মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে বসবে মেগা উদ্বোধনের আসর। দেবীপক্ষের সূচনায় উপস্থিত থেকে নিজে হাতে মাতৃমূর্তির চক্ষুদান করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। কী কী পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য BJP সরকারের?
২১ দিনের জন্য ইডেন চাইল রাজ্য
জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া দফতরের পক্ষ থেকে CAB-র কাছে একটি চিঠি লেখা হয়েছে। দুর্গাপুজোর মেগা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য আগামী ১০ অক্টোবর, মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সের বুকিং চাওয়া হয়েছে।
মেগা উদ্বোধনী ইভেন্টের পাশাপাশি ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ২১ দিনের জন্য ইডেন গার্ডেন্স চাওয়া হয়েছে রাজ্যের পক্ষ থেকে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চিঠির উত্তর চাওয়া হয়েছে CAB-র থেকে।
কী বলঠছেন সৌরভ?
বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জমকালো প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়ে দুর্গাপুজোর সূচনা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইডেনে হাজির থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। মহালয়ার দিন ইডেনে পুজো উদ্বোধন বড় প্রাপ্তি বলে জানিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে CAB প্রধান সংবাদমাধ্যমে বলেন, '১০ অক্টোবর মহালয়া উপলক্ষ্যে ইডেন গার্ডেন্সে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। এটা আমাদের কাছে অবশ্যই একটা বড় প্রাপ্তি। খেলা বাদ দিয়ে ইডেন গার্ডেন্স এই ধরনের অনুষ্ঠান অনেকদিন পরে হচ্ছে। এমন অনুষ্ঠান যেখানে প্রধানমন্ত্রী থাকছেন, ওঁ খেলা ভালবাসেন। আমার সঙ্গে একাধিকবার ওঁর কথা হয়েছে নানা বিষয় নিয়ে।' মহালয়ার অনুষ্ঠানটি দেখার মতো অনুষ্ঠান হতে চলেছে বলেও জানান সৌরভ। তিনি বলেন, 'আমি এই ধরনের একটা ইভেন্ট ২০২০ সালে আমেদাবাদে দেখেছিলাম। সেখানে প্রাইম মিনিস্টার অফিস থেকে আমায় বিশেষ আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে এসেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, অমিত শাহ ছিলেন। পুরো স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষ ছিল। যদিও সেটা দিনের বেলা হয়েছিল। তবে ইডেনের মহালয়ার অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যায় হবে। আলো, ড্রোন, সব মিলিয়ে আশা করি এটি সত্যিই দেখার মতো একটি আয়োজন হতে চলেছে।'
থাকছে বিরাট চমক
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যখন ইডেনে প্রবেশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তখন এক হাজার মহিলার উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে চারদিক। বেজে উঠবে ১০ হাজার ঢাক। স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় শ্রেয়া ঘোষাল গাইবেন পুজোর গান। তার আগে থাকছে রোড শো। আলোকসজ্জায় সেজে ওঠা রেড রোড ধরে পুজোর শোভাযাত্রায় থাকবে ২৩টি জেলার ২৩ ধরনের নৃত্যকলা। যা তুলে ধরবে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে। অনুষ্ঠানে দার্জিলিঙের তামাং সেলো থেকে শুরু করে কালিম্পঙের লেপচা নাচ, জলপাইগুড়ির, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজবংশী লোকনৃত্যও পরিবেশিত হবে। এ ছাড়াও মালদহের গম্ভীরা, বীরভূমের বাউল, পূর্ব বর্ধমানের রাইবেশে, পশ্চিম বর্ধমানের সাঁওতালি নাচ, নদিয়ার গৌড়ীয় বৈষ্ণব নাচ, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার ছৌ পরিবেশিত হবে। ঝাড়গ্রামের সাঁওতালি নাচ, পূর্ব মেদিনীপুরের পটুয়ার গান, হুগলির রামপ্রসাদী, হাওড়ার লোকনাট্য, উত্তর ২৪ পরগনার বনবিবি পালা-সহ সব জেলার নানা অনুষ্ঠান হবে। সামান্য কিছু বদল হলেও হতে পারে। তবে অনুষ্ঠানের ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত। ইডেনের অনুষ্ঠান থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ১০ হাজার দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হবে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে। থাকছে ‘মা আসছে-উমা স্টোরি’ থিমে থ্রি ডি প্রোজেকসন ম্যাপিং শোয়ের অত্যাধুনিক ব্যবস্থাও। বিকেল ৪টে থেকে শুরু হবে এই অনুষ্ঠান।