মোদিকে টক্কর দেওয়া অজয় রাই নন, উত্তরপ্রদেশে যোগীর বিরুদ্ধে মুসলিম মুখের ভাবনা কংগ্রেসের
প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০২৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে টক্কর দিতে হলে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে ভালো ফল করতেই হবে। এই সহজ সত্যিটা মোটামুটি সকলেই জানেন। জানে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বও। সে কারণে এবার আগেভাগে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি বধ করার ছক কষছে টিম রাহুল। সূত্রের খবর, যোগীর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের বাজি হতে চলেছে দলিত-মুসলিম জোট। আর সেই ছকে ‘সেনাপতি’ হিসাবে উঠে আসতে পারেন কোনও মুসলিম মুখ।
একটা দীর্ঘ সময় গোবলয়ে কংগ্রেস উচ্চবর্ণের দল হিসাবে পরিচিত ছিল। সবর্ণ-মুসলিম এই কম্বিনেশনে একসময় সাফল্যও এসেছে। কিন্তু গত ৩ দশকে ব্রাহ্মণ-ঠাকুররা কংগ্রেসের থেকে ছিটকে বিজেপির কোর ভোটারে পরিণত হয়েছেন। এবার রাম মন্দিরে চুরির মতো ইস্যু নিয়ে শুরুর দিকে আন্দোলন করলেও হাত শিবির বুঝে গিয়েছে, বিজেপির ওই উচ্চবর্ণের ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরানোটা মোটেই সহজ কাজ হবে না। তাই ২০২৭ সালের আগে স্ট্র্যাটেজি বদলের পথে হাত শিবির। ২০২৪ লোকসভায় উত্তরপ্রদেশে যে পিডিএ ফর্মুলায় সাফল্য এসেছিল সেটাতেই এবার জোর দিতে চাইছে কংগ্রেস।
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে মায়াবতীর বিএসপি এখন ক্ষয়িষ্ণু শক্তি। মায়াবতীর মূল যে দলিত ভোটব্যাঙ্ক, সেটাতে থাবা বসানোর মরিয়া চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী। তিনি জাতীয় স্তর থেকে পুরোদস্তুর দলিত রাজনীতি শুরু করেছেন। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠিয়েছে প্রাক্তন আপ নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতমকে। তিনি দলিত রাজনীতির মুখ হিসাবে পরিচিত। রাজেন্দ্র পর্যবেক্ষক হওয়ার পর দলিত ভোটারদের কাছে টানতে বিস্তর কর্মসূচিও নিচ্ছেন। এবার কংগ্রেসের নজরে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কও। হাত শিবিরের লক্ষ্য দলিত এবং মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করে শক্তিশালী সামাজিক সমীকরণ তৈরি করা। জোটসঙ্গী অখিলেশ যাদব নিজস্ব যাদব ভোটের পাশাপাশি ব্রাহ্মণ ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে শক্তিশালী সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে।
কিন্তু মুসলিম ভোটারদের কাছে টানার কাজে মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছেন দলের প্রদেশ সভাপতি অজয় রাই। অজয় গত ৩ বার বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লড়েছেন। ২০২৪ সালে মোটে লাখ দেড়েক ভোটে হেরেছেন তিনি। এমনকী বেশ কয়েক রাউন্ড এগিয়েও ছিলেন। এর আগে পাঁচবার বিধায়কও হন। আপাতত কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি। কিন্তু তিনি পুরোদস্তুর হিন্দুত্বের রাজনীতি করেন। তিলক পরেন, মন্দিরে মন্দিরে যান, হিন্দুত্বের রাজনীতি করেন। এ হেন ব্যক্তি দলের রাজ্য সভাপতি থাকলে মুসলিমদের আকৃষ্ট করা মুশকিল। তাই দলের পর্যবেক্ষক রাজেন্দ্র পাল গৌতম চাইছেন অজয় রাইকে সরিয়ে কোনও মুসলিমকে দলের রাজ্য সভাপতি করতে। সেক্ষেত্রে নাম ভেসে আসছে সাহারানপুরের সাংসদ ইমরান মাসুদ, নাম ভেসে আসছে দলের সংখ্যালঘু সেলের সর্বভারতীয় সভাপতি ইমরান প্রতাপগড়ির, নাম ভেসে আসছে প্রভাবশালী মুসলিম মুখ মহম্মদ জাভেদের।
তবে একই সঙ্গে অন্য ভাবনাও রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে কোনও মুসলিম মুখকে প্রদেশ সভাপতি করলে সেটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘদিনদের বিজেপি কংগ্রেসের গায়ে যে ‘মুসলিমদের পার্টি’র তকমা সাঁটিয়ে দিয়েছে, সেটা আরও জোরালো হতে পারে। আর সেটা শুধু উত্তরপ্রদেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাছাড়া উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ভোটে নজর রয়েছে জোটসঙ্গী অখিলেশ যাদবেরও। ফলে কংগ্রেস মুসলিম ভোট পেতে ঝাঁপালে রাগ হতে পারে অখিলেশেরও।