• বাঘের হানায় ‘ব্রেনডেড’ অজিতের অঙ্গ সংগ্রহে ১২ ঘণ্টা দেরি! কেন? উঠছে প্রশ্ন
    প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বহু প্রতিকূলতার পথ বেয়ে লক্ষ্যভেদ করা সহজ নয়। সেই সুযোগও হাতছাড়া! সুন্দরবনের মৎস্যজীবী অজিতের ক্ষেত্রে অঙ্গ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হতেই ১২ ঘণ্টা লেট। মঙ্গলবার সকালে সম্মতিপত্র পাওয়ার পরেও অঙ্গ সংগ্রহে রাত ১০ বাজল কেন? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

    সুন্দরবনের মৎস্যজীবীর নাম আজিজ মোল্লা। বয়স ৩২। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ৫-৬ জন সঙ্গীর সঙ্গে ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন আজিজ। জঙ্গল লাগোয়া খাঁড়িতে জাল তোলার সময় আচমকা বাঘ হামলা চালায় তাঁর উপর। চলে বাঘে-মানুষে লড়াই। আজিজকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বাঘ। সঙ্গীদের তৎপরতায় তা ঠেকানো যায়। তবে গুরুতর জখম হন যুবক। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। তবে সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য আজিজকে পাঠানো হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। ভর্তি করা হয় ট্রমা কেয়ারে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের তরফে গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড। ভিনরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেও আনা হয়।চলে বিভিন্ন পরীক্ষা। একাধিক অস্ত্রোপচার। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি! হৃদস্পন্দন চালু থাকলেও মতিষ্কের একাধিক কোষ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। শুক্রবার চিকিৎসকরা তাঁকে ‘ব্রেনডেড’ ঘোষণা করেন। এরপরেই অঙ্গদানের জন্য পরিজনদের বোঝানোর প্রক্রিয়া শুরু করে ‘রিজিওনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্ল্যান্ট অর্গানাইজেশন’-এর প্রতিনিধিরা।

    স্বামীর মৃত্যু পরেও অনেকে মধ্যে তিনি বেঁচে থাকবেন জেনে সোমবার অঙ্গদানের সম্মতিপত্রে সই করেন অজিতের স্ত্রী তসলিমা। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এসএসকেএমে পৌঁছে গিয়েছিলেন অজিতের পরিবার। কিন্তু সেই অঙ্গদানের প্রক্রিয়া শুরু হতে হতে রাত ১০টা বেজে যায়। এসএসকেএম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে অজিতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সেই সময়ে শারীরিক যা পরিস্থিতি ছিল, তাতে অঙ্গ সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল না। মৃত্যুর শংসাপত্রে লেখা তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে মৃত্যু হয় অজিতের। মৃতের ভাই আক্ষেপের সুরে বলেন, “যা যা কাগজে সই করতে বলা হয়েছিল, সে সবই করা হয়েছে। এর পরেও অঙ্গ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হতে ১২ ঘণ্টা সময় কেন লাগল?”

    সরকারি স্বাস্থক্ষেত্রের ‘মুখ’ হিসেবে পরিচিত উৎকর্ষ কেন্দ্রে চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, বাঘের হানায় জখম যুবকের অঙ্গ দানের যোগ্য কি না সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন ছিল। জানা গিয়েছে, কুকুর-শিয়ালের কামড় বা আঁচড়ে থেকে যেমন জলাতঙ্ক রোগ হতে পারে, বাঘের ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা কতটা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। তা নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় অনেকটা অতিবাহিত হয়। যুবকের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় রিপোর্ট পরীক্ষা করে ঠিক হয়, যকৃৎ, কিডনি এবং কর্নিয়া প্রতিস্থাপনযোগ্য।
  • Link to this news (প্রতিদিন)