জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের বদলি আপাতত স্থগিত! কী বলছে শিক্ষাদপ্তর?
প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জনগণনার প্রথম পর্বের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি করা যাবে না। এমনকী, বদলির নির্দেশ জারি হয়ে থাকলেও কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে ‘রিলিজ়’ করা যাবে না। এ জন্য বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় ধার্য করা হয়েছে। এখানেই আপত্তি শিক্ষকদের একাংশের। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পূর্ণ হচ্ছে ১৫ সেপ্টেম্বর। অথচ, ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাউকে বদলি করা যাবে না। এই বাড়তি ১৫ দিন সময়ের উল্লেখ কেন করা হল, তা জানতে চান শিক্ষকরা।
এই নির্দেশের ফলে বদলির অপেক্ষায় থাকা বহু শিক্ষক-শিক্ষিকার আবেদন আপাতত কার্যত স্থগিত হয়ে গেল। আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার জনগণনার দায়িত্বকে ‘অন ডিউটি’ হিসাবে গণ্য করলেও, তা নিয়ে শিক্ষক মহলে উদ্বেগ কাটেনি। বিকাশ ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, জনগণনার কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতেই এই সাময়িক সিদ্ধান্ত। তবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বদলির অপেক্ষায়
থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে জনগণনার কাজকে কারণ দেখিয়ে বদলি আটকে রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশেষত দূরের জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে পারিবারিক সমস্যা, যাতায়াতের অসুবিধা এবং মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে। শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের আশঙ্কা, এই স্থগিতাদেশ দীর্ঘায়িত হলে সামগ্রিক বদলি প্রক্রিয়াতেই তার প্রভাব পড়বে। ফলে প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং শিক্ষকদের বদলির দাবির মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী জানান, পোর্টালে বহু অসঙ্গতি। সেগুলি ঠিক না হলে বদলি প্রক্রিয়া চালু রাখা বা না রাখা সমান হয়ে যায়।