• এবিভিপি-এসএফআইয়ের সংঘর্ষ রণক্ষেত্র শিলিগুড়ি কলেজ
    বর্তমান | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: এবিভিপি ও এসএফআইয়ের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শিলিগুড়ি কলেজ। দুই ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনায় কলেজ চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, কলেজ ইউনিফর্মে থাকা কয়েকজন পড়ুয়াকে সাধারণ পোশাক পরা একদল যুবক প্রকাশ্যে বাঁশ দিয়ে মারে। কলেজের মধ্যে রাজনৈতিক হিংসাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। 

    এসএফআইয়ের অভিযোগ, তাদের কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে একা পেয়ে এবিভিপির কর্মীরা এদিন কলেজের মধ্যে হামলা চালায়। কলেজের শিক্ষক, অধ্যাপক ও পুলিশ কর্মীদের উপস্থিতিতে তারা আক্রান্ত হলেও সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি। দুই এসএফআই সদস্যকে রাস্তায় ফেলে বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

    অন্যদিকে, এবিভিপির পালটা দাবি, এসএফআইয়ের সদস্যরাই প্রথমে তাদের কর্মীদের উপর চড়াও হয়। কলেজের ভিতরে আপত্তিকর ও দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া এবং তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ তুলে সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও এবিভিপি সদস্যরা প্রতিবাদ করেন বলে দাবি সংগঠনের। 

    এসএফআই নেতা অঙ্কিত দে’র অভিযোগ, আমাদের কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর উপর এবিভিপির কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে কলেজে আসার সময় আমাকেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়া করা হয়। ঘটনার তদন্তের জন্য কলেজের প্রতিটি গেটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। তার অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষ এবিভিপিকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।

    অন্যদিকে, এবিভিপির রাজ্য নেতা অনিকেত দে সরকারের দাবি, এসএফআই মিথ্যা অভিযোগ করছে। তাদের সদস্যরাই প্রথমে এবিভিপি কর্মীদের উপর হামলা চালায়। এরই প্রতিবাদেই সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও সংগঠনের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যকলাপ হলে তার জবাব এভাবেই দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

    ঘটনার পর কলেজ চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে এলেও দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বজায় ছিল। এদিকে, এসএফআইয়ের অভিযোগের পর কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও শিলিগুড়ি কলেজের প্রিন্সিপাল সুজিত ঘোষ বলেন, আমি অফিসে কাজ করছিলাম। আমার কাছে কোনো ধরনের গোলমালের খবর নেই। 

    ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্রথমে কারা হামলা চালিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, কলেজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি শিক্ষামহলের। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)