পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৬৯ খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থায় হানা, ১২টি বন্ধের নোটিস
বর্তমান | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: দুর্গাপুজোর আগে জেলাজুড়ে খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের অভিযান চলল। হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে মিষ্টির দোকান, বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থার কারখানা, গোডাউনে হানা দিয়ে নানা অনিয়মের হদিশ পেল দপ্তর। রিপোর্ট হাতে আসতে চোখ কপালে উঠেছে আধিকারিকদেরও। সাতদিনের এই বিশেষ অভিযানে মোট ১৬৯টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে। তার মধ্যে ৭৩টি প্রতিষ্ঠানে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (FSSAI) রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স নেই বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। পাশাপাশি ১২ প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে নোটিস দেওয়ার ঘটনায় শোরগোল পড়েছে জেলাজুড়ে।
খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, এক থেকে সাত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। মেদিনীপুর, ঘাটাল, খড়্গপুর, নারায়ণগড়, কেশপুর, পিংলা, দাসপুর, চন্দ্রকোণা, শালবনী সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালানো হয়েছে। সাতদিনে ৯০টি হোটেল ও রেস্তরাঁ, ১২ খাদ্য প্রস্তুতকারক ইউনিট এবং ৫৩টি মিষ্টির দোকান পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্য প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে আরও ১৪টি জায়গায় অভিযান চলে।
রিপোর্টে আরও জানা গিয়েছে, অভিযানের সময় ৪০ প্রতিষ্ঠানে খাবার নষ্ট করা হয়েছে। মোট ১৬০ সংস্থাকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। ১২ প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে খাদ্য উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ১২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফাস্ট ফুড সেন্টার, কেকের দোকান, মিষ্টির দোকান রয়েছে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, মানুষের পাশে জেলা প্রশাসন সর্বদা থাকবে। নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। কোনো অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না।
তবে প্রশাসনের এই অভিযানকে স্বাগত জানালেও তা যেন শুধুমাত্র বিশেষ সপ্তাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সেই দাবি উঠছে। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা সোমনাথ দে বলেন, এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সাত দিন হয়েই থেমে গেলে চলবে না। নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি শাস্তিও দিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় সেটিং হয়ে যায়। তাই অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা জরুরি।