প্রশাসকদের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে পুরনির্বাচন, ৯টি পুরসভা জুড়ে হচ্ছে গ্রেটার বারাকপুর কর্পোরেশন
বর্তমান | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সবক’টি পুরসভায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। পুরসভা পরিচালনার জন্য প্রশাসক বসানো হয়েছে। তাঁদের মেয়াদ শেষ হবে ডিসেম্বর মাসে। নিয়ম অনুযায়ী, এর মধ্যেই পুরভোট সেরে ফেলা উচিত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই পুরসভাগুলিতে নির্বাচনের কোনো প্রস্তুতি শুরু হয়নি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভাগুলিকে এক জায়গায় এনে গ্রেটার বারাকপুর পুরসভা তৈরি করে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভোট হতে পারে। খড়দহ থেকে কাঁচরাপাড়া পর্যন্ত ৯টি পুরসভাকে আনা হবে এই গ্রেটার বারাকপুর পুরসভার অধীনে।
রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন পুরসভার তৃণমূল জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান পুরসভায় আসা বন্ধ করে দেন। কারণ, বিক্ষোভ ও ‘ডিম থেরাপি’র ভয়। এই অবস্থায় পুরসভাগুলির সিংহভাগ কাউন্সিলার ও চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। তখন সরকার পুরসভাগুলিতে প্রশাসক বসায়। বারাকপুরের মহকুমা শাসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডব্লুবিসিএস অফিসার প্রশাসক হিসাবে পুরসভা পরিচালনা করছেন আপাতত। কিন্তু নিয়ম হল, নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে যাওয়ার ছ’মাসের মধ্যে পুর-নির্বাচন করাতে হয়। কিন্তু ইতিমধ্যে নবান্নের শীর্ষকর্তাদের নির্দেশে ন’টি পুরসভাকে একসঙ্গে করে গ্রেটার বারাকপুর পুরসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মহকুমা শাসক যাদব সূর্যভান আচ্ছেলাল প্রতিটি পুরসভার কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিলেন। সেই রিপোর্ট প্রশাসনিক ভবনে জমাও পড়েছে। তারপর সুসংহত রিপোর্ট তৈরি করে গ্রেটার বারাকপুর পুরসভা তৈরির প্রস্তাব তৈরি করে পাঠিয়ে দিয়েছেন মহকুমা শাসক। সেই প্রস্তাবে খড়দহ, টিটাগড়, বারাকপুর, উত্তর বারাকপুর, গারুলিয়া, ভাটপাড়া, নৈহাটি, হালিশহর এবং কাঁচরাপাড়া পুরসভাকে সংযুক্ত করে গ্রেটার বারাকপুর পুরসভা তৈরির কথা বলা হয়েছে। এই ন’টি পুরসভার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ২২১। ২০১১ সালের সেন্সাস অনুযায়ী জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষ। সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া শেষ হলে পুরভোট হবে। এর জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বিধানসভায় পাশ করাতে হবে। এভাবেই বাড়ানো হয়েছে কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা। তারপর এই দু’টি জায়গায় পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সেভাবেই গ্রেটার বারাকপুর পুরসভা তৈরির প্রস্তাব জমা পড়েছে। রাজ্য সরকারের সিলমোহর মিললেই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে। আরও জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত পুরসভার মূল কার্যালয় থাকবে বারাকপুরেই। তিন থেকে চারটি ওয়ার্ড একসঙ্গে করে এক-একটি ওয়ার্ড তৈরি করা হবে। বাড়বে ওয়ার্ড পিছু বরাদ্দের পরিমাণও। এ প্রসঙ্গে নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, ‘প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হলে আবার এক্সটেনশন দেওয়া হবে। কর্পোরেশন তৈরি করে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভোট নেওয়া হবে। তার আগে হবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস।’