• কাজিপাড়া থেকে বঙ্গবাসী পর্যন্ত অভিযান শুরু, টোটো বন্ধে আন্দুল রোড, জিটি রোডে কঠোর পুলিশি নজরদারি
    বর্তমান | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের নির্দেশিকার পর এবার হাওড়ার গুরুত্বপূর্ণ দুই রাস্তা জিটি রোড ও আন্দুল রোডে টোটো নিয়ন্ত্রণে তৎপর হল পুলিশ। কার্যত টোটোর দখলে চলে যাওয়া জিটি রোডের কাজিপাড়া মোড় থেকে বঙ্গবাসী মোড় পর্যন্ত টোটো চলাচল বন্ধ করতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে পুলিশি নজরদারি। আপাতত মাইকিং করে ও মৌখিকভাবে চালকদের সতর্ক করা হচ্ছে।

    জিটি রোডে দিনভর যানজটের প্রকৃত উৎস খুঁজতে হলে যেতে হবে কাজিপাড়া মোড়ে। কাজিপাড়া মোড়ের চারদিকে গজিয়ে উঠেছে একাধিক অস্থায়ী টোটোস্ট্যান্ড। আশপাশের এলাকা ছাড়াও সাঁকরাইল, আন্দুল থেকেও টোটো এসে সেখানে জড়ো হচ্ছে। অবাধে চলে হাওড়া ময়দানের জন্য যাত্রী তোলা। কাজিপাড়া থেকে শিবপুর ট্রাম ডিপো, পিএম বস্তি, মল্লিক ফটক হয়ে বঙ্গবাসী মোড় পর্যন্ত জিটি রোডে ট্রাফিক সিগন্যাল এবং ওয়ানওয়ে নিয়ম ভেঙে দিনভর অসংখ্য টোটো চলাচল করছে। জায়গায় জায়গায় অস্থায়ী স্ট্যান্ড থাকায় যাত্রী সংকটে ভুগছে মন্দিরতলা, বি গার্ডেন, দানেশ শেখ লেন, চুনাভাটি ও আলমপুর রুটের বাসগুলি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজিপাড়া থেকে বঙ্গবাসী পর্যন্ত জিটি রোডে আর টোটো চলবে না। মঙ্গলবার কাজিপাড়া মোড়ে জিটি রোডে ঢুকতে না দিয়ে টোটোগুলিকে ফোরশোর রোডের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তবে লাস্ট ডেস্টিনেশন ভেহিকেল হিসাবে জিটি রোডের লেন ও বাইলেনে টোটো চলতে পারবে। হাওড়া সিটি পুলিশের ট্রাফিকের এক আধিকারিক জানান, আপাতত মাইকিং ও মৌখিকভাবে চালকদের সতর্ক করা হচ্ছে। আগামীদিনে পরিবহণ দপ্তরের নির্দেশিকা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর গাড়ির চাপ কমাতে বিকল্প রাস্তা হিসাবে বেছে নেওয়া আন্দুল রোডও টোটোর দৌরাত্ম্যে কার্যত জর্জরিত। এজেসি বোস বি গার্ডেন থানার সামনের অংশ থেকে বকুলতলা মোড়, দানেশ শেখ লেন, চুনাভাটি, হাঁসখালি পোল— গোটা আন্দুল রোডেই টোটোর কারণে তৈরি হচ্ছে ভয়ঙ্কর যানজট। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এই রাস্তায় টোটো নিয়ন্ত্রণে চালকদের সতর্ক করছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, গত বছর অক্টোবর মাসে অবৈধ টোটো নিয়ন্ত্রণে ই-রিকশ ও টোটো রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাহন ও টিটিএন নামে দু’টি পোর্টাল চালু করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। কিন্তু দু’টি পোর্টাল নিয়ে বিভ্রান্তি, রেজিস্ট্রেশনের টাকা দেওয়া সহ নানা অভিযোগে সেই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি মাত্র একটি টোটোর মালিক হতে পারেন। টোটোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ইনিউমারেশন প্রয়োজন। তবেই কোন এলাকায় কতগুলি রেজিস্টার্ড টোটো চলছে, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)