আজকাল ওয়েবডেস্ক: খড়গপুর এবং ঝারসুগুড়া (বাগদেহি)-র মধ্যে চতুর্থ রেললাইনের মেগা প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন মিলল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে। 'ভারত সরকারের পিএম গতি শক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যান' -এর অধীনে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এছাড়াও ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়েও রেলপথের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মোট পাঁচ রাজ্যে যানজট কমানো এবং পণ্য ও যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ১০,৭৮৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের তিনটি রেল সম্প্রসারণ প্রকল্পের অনুমোদন করেছে।
বুধবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড় জুড়ে প্রায় ৬৫৬ কিলোমিটার নতুন রেললাইন যুক্ত হবে এবং ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে এগুলোর কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি খড়গপুর ও ঝারসুগুড়া (বাগদেহি)-র মধ্যে চতুর্থ লাইন, কাটনি ও পেন্ড্রা রোডের মধ্যে চতুর্থ লাইন এবং বিলাসপুর (উসলাপুর) ও পেন্ড্রা রোডের মধ্যে তৃতীয় লাইন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে।
যেসব পথে কয়লা, সিমেন্ট ও ইস্পাতের মতো শিল্পপণ্য পরিবহন করা হয় এই অতিরিক্ত রেললাইনগুলো তার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ টন পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে।
পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে বাড়তি ক্ষমতা
সরকার জানিয়েছে, এই সম্প্রসারণের ফলে ১৪টি জেলার প্রায় ৪,৭৯০টি গ্রামের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে, যার সুফল পাবেন প্রায় ৫৬ লক্ষ মানুষ।
এছাড়া এই প্রকল্পগুলোর ফলে বেশ কিছু পর্যটন ও ধর্মীয় স্থানে যাতায়াত সহজ হবে। এর মধ্যে রয়েছে বান্ধবগড় টাইগার রিজার্ভ, অমরকণ্টক মন্দির, আচানাকমার টাইগার রিজার্ভ, জগন্নাথ মন্দির এবং রতনপুর মহামায়া মন্দির।
সরকার জানিয়েছে যে, এই প্রকল্পগুলো 'পিএম গতি শক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান'-এর অংশ। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হল বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বয় সাধন করা এবং পণ্য ও মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো।
পরিবহন খরচ ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস
সরকার আশা করছে যে, রেলের এই বাড়তি ক্ষমতা সড়কের ওপর চাপ কমাবে, লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন খরচ হ্রাস করবে এবং সড়ক-নির্ভর পণ্য পরিবহনের ওপর দেশের নির্ভরতা কমাবে।
বাজেটের সম্ভাব্য খরচ অনুযায়ী, এই প্রকল্পগুলোর ফলে প্রায় ১২ কোটি লিটার জ্বালানি তেলের সাশ্রয় হতে পারে এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ প্রায় ৬২ কোটি কেজি কমানো সম্ভব হতে পারে। সরকার এই পরিবেশগত সুফলকে প্রায় ২ কোটি ৪৮ লক্ষ গাছ লাগানোর সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছে। এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে রেল পরিষেবা পরিচালনার দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।