• এবার ‘জনসংযোগ সময়’ বেঁধে দিল রাজ্য সরকার
    আজকাল | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়বডেস্ক: প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ করতে তৎপর নবান্ন। তৃণমূলস্তরে আধিকারিকদের জন্য নির্দিষ্ট ‘জনসংযোগ সময়’ বেঁধে দিল রাজ্য সরকার। পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দপ্তরের ২১ অগস্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দপ্তরে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনতে হবে। এই সাক্ষাতের জন্য কোনও আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন হবে না।

    নির্দেশটি প্রশাসন ও পুলিশ—দুই ক্ষেত্রেই বিস্তৃতভাবে কার্যকর করা হয়েছে। ডিভিশনাল কমিশনার, জেলাশাসক, পুর কমিশনার, ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সিইও, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিও এবং পুর ও নগর স্থানীয় সংস্থার এক্সিকিউটিভ অফিসারদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের ডিজি, এডিজি, আইজি, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ সুপার, ডেপুটি কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও এবং থানার ইন্সপেক্টর/ওসি-রাও এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন।

    একইভাবে, বন দপ্তর এবং বিভিন্ন ‘লাইন ডিপার্টমেন্ট’-এর ডিরেক্টরেট, জেলা, মহকুমা ও ব্লক স্তরে কর্মরত আধিকারিকদেরও নির্ধারিত সময়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে হবে।

    প্রশাসনিক মহলের মতে, অনলাইন গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল ব্যবস্থার পাশাপাশি অফলাইন বা সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই এই নির্দেশের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে ডিজিটাল পরিষেবার বাইরে থাকা নাগরিকদের প্রশাসনের কাছে সরাসরি পৌঁছনোর সুযোগ দিতে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

    নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি দফতর ও অফিসে নির্ধারিত দিন ও সময় দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে। ওই সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব বৈঠক, সরকারি সফর বা অন্য কোনও কর্মসূচি রাখা যাবে না।

    জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি আধিকারিকদের সরকারি ই-মেল ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর অফিসে সহজে দৃশ্যমান স্থানে প্রকাশ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দফতর বা অফিসের সরকারি ওয়েবসাইটেও এই তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও নজরদারির মধ্যে আনতে ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ (ASAP) পোর্টাল-কে যথাযথভাবে উন্নত করার কথাও বলা হয়েছে। নির্ধারিত সাক্ষাতের সময়ে পাওয়া অভিযোগ এবং তার ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপ পোর্টালে নথিভুক্ত হবে। ডিভিশনাল কমিশনার, জেলাশাসক এবং অন্যান্য উচ্চতর কর্তৃপক্ষ সেই তথ্য পর্যালোচনা করতে পারবেন।

    তবে নতুন এই ব্যবস্থা অনলাইন অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার বিকল্প নয়, বরং তার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বলে নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ ডিজিটাল এবং সরাসরি—দুই মাধ্যমেই নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ বজায় থাকবে।

    সমস্ত দফতর, জেলাশাসক, পুর কমিশনার এবং পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশটি ব্যাপকভাবে প্রচার এবং কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)