আজকাল ওয়েবডেস্ক: রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে দলের প্রচার কৌশল ঠিক করতে এসে সাংগঠনিক সমস্ত ফাঁকফোকর মেরামতি করার জন্য বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্বকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে গেলেন। এর মধ্যেই সাংগঠনিক সমস্ত প্রস্তুতি সেরে নিয়ে নির্বাচনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
রেজিনগর থেকে নির্বাচিত 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগের ফলে ওই আসনটি খালি হওয়ায় আগামী ৬ অক্টোবর সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বুধবারই হুমায়ুন পুত্র গোলাম নবী আজাদ, 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীকে ওই কেন্দ্র থেকে লড়াই করার জন্য মনোনয়ন পত্র জমা করেছেন। তবে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অন্য কোনও রাজনৈতিক দল রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা বা মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি।
বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে হুমায়ুন পুত্র জানিয়েছেন, আসন্ন উপ নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে এবার তাঁর মূল লড়াই বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গেই হবে।
হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া আসনটি এবার নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব রেজিনগরের ২৮২ টি বুথে যাতে এজেন্ট দিতে পারেন তার কাজ জোর কদমে চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে গতকাল বহরমপুরে এসে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী এবং রাজ্য সহ সভাপতি তথা রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয় আধিকারিক প্রবাল রাহা,মুর্শিদাবাদ জেলার বিজেপির তিনটি সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব, দলের মুর্শিদাবাদ জেলার বিধায়ক, মন্ত্রীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন," বুধবারের বৈঠকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রেজিনগরের যে সমস্ত বুথে ২১ জনের কমিটি এখনও তৈরি হয়নি তা আগামী ১৩ তারিখের মধ্যে তৈরি করে ফেলতে হবে।"
তবে উপনির্বাচনের জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় না থাকার কারণে বিজেপির পক্ষ থেকে এবার বড় বৈঠকের পরিবর্তে প্রত্যেকটি বুথে ছোট ছোট বৈঠক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে জানান মলয় মহাজন । তিনি বলেন ,"আগে আমরা প্রত্যেকটি বুথে অন্তত পাঁচবার করে বৈঠক করেছি। উপনির্বাচনের জন্য আমাদের লক্ষ্য নির্বাচনের আগে প্রত্যেকটি বুথে অন্তত তিনবার করে বৈঠক করা।"
রেজিনগর বিধানসভার অন্তর্গত বিজেপির চারটি 'মন্ডলের' দায়িত্ব এবার থাকছেন চার বিধায়ক। এছাড়া ১৪ টি অঞ্চলের দায়িত্বে থাকছেন বিজেপির বহরমপুর সংগঠনিক জেলার ১৪ জন 'অফিস বেয়ারার' এবং রেজিনগরের ৫৭ টি শক্তি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকছেন বর্তমান জেলা কমিটি এবং পূর্বতন জেলার কমিটির মোট ৫৭ জন সদস্য।
রেজিনগর উপনির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখে বিজেপির তরফ থেকে শক্তিপুরে একটি দলীয় অফিস খোলা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে শক্তিপুর অফিস থেকেই রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের যাবতীয় কাজ পরিচালনা করা হবে। তবে ভাগীরথী নদীর অপর পারে রেজিনগর বিধানসভার বাকি অঞ্চলগুলোর নেতৃত্বের তরফ থেকে সেখানেও একটি দলীয় অফিস খোলার দাবি জেলা নেতৃত্বের কাছে রাখা হয়েছে। বিজেপি নেতারা ঠিক করেছেন উপযুক্ত পরিকাঠামো যুক্ত বাড়ি পাওয়া গেলে উপনির্বাচনের আগে বিকলনগরে অপর একটি দলীয় অফিস খোলা হবে। তারপর সেখান থেকেও ভোট পরিচালনার কাজ করা হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিজেপি নেতৃত্ব রেজিনগর উপ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে না পারা প্রসঙ্গে মলয় মহাজন বলেন," আমাদের দল পিতা-পুত্রের দল নয়। আমাদের দলে সমবেত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপর প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আজ অথবা আগামী কালের মধ্যেই আমাদের দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।" বিজেপি সূত্রের খবর, রেজিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে জেলার কয়েকজন পরিচিত মুখ রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম মলয় মহাজন নিজে।
উপ নির্বাচনের প্রচার কাজ চালানোর জন্য বিজেপির তরফ থেকেই এবার অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ঠিক করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আলোচনায় ঠিক হয়েছে, অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা যত বড়ই পদাধিকারী হোক না কেন তাঁকে রেজিনগরে পড়ে থেকে ভোটের কাজ পরিচালনা করতে হবে। তিনি যে সমস্ত বুথের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন সেখানে নিয়মিত বৈঠক করবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
মলয় মহাজন জানান," আমাদের সংগঠনিক জেলায় ২৩ জন 'অফিস বেয়ারার' রয়েছেন। আমরা আপাতত ১৮ জন নেতার নাম ঠিক করেছি অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। কোন নেতা আগামী একমাস রেজিনগরে পড়ে থেকে ভোট প্রচারের জন্য সময় দিতে পারবেন তা জেনে নিয়ে সেখান থেকে ১৪ জনের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।"