আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবি। টালমাটাল দশা দলেরও। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর প্রথমবার কলকাতার বাইরে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন মমতা ব্যানার্জি। হুগলির শ্রীরামপুরে মমতা ব্যানার্জিকে শর্তসাপেক্ষ জমায়েতের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
আগেই ১১ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরে একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিল হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এই মিছিল ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি জেলা প্রশাসন। মিছিলের অনুমতি না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল। আদালত শর্তসাপেক্ষ জমায়েতের অনুমতি দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের তরফে বেশকিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে প্রাথমিকভাবে।
কী কী শর্ত মেনে জমায়েত করা যাবে? সূত্রের খবর, এক, রাস্তায় যানজট যাতে না হয় না দেখতে হবে। দুই, দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত জমায়েতের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিন, দুই হাজারের মধ্যে কর্মী, সমর্কথকদের নিয়ে জমায়েত করতে হবে। চার, উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে পারবেন না। পাঁচ, আজ, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ভলান্টিয়ারদের তালিকা দিতে হবে আয়োজকদের, অর্থাৎ কালীঘাট তৃণমূলকে।
মমতা ব্যানার্জি, কল্যাণ ব্যানার্জি, অসিত মজুমদার, থাকবেন এই জমায়েতে। সঙ্গে থাকবেন জেলার কর্মী সমর্থকরা। তবে কালীঘাট তৃণমূল বারবার প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছে। মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করবে কালীঘাট তৃণমূল।
মিছিল করে সভার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূলের তরফে। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, মিছিল নয়, মাহেশ জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সমাবেশ করতে পারে। তবে শর্তগুলি মানতে হবে।
কালীঘাট তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র নীলাঞ্জন দাসের অভিযোগ, 'পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে জমায়েতের নির্ধারিত রাস্তায় নানা সংস্থায় জোর করে অভিযোগ জানানোর কথা বলা হচ্ছে। বিজেপির কর্মী সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা পোস্ট করছেন। কাল বিশৃঙ্খলা হতে পারে, আমরা খবর পেয়েছি। প্রশাসন কতটা আটকাতে পারে, আমরা সেটা দেখব। আশা করব চোখ কান খোলা থাকবে কোর্টেরও।'