• আন্তর্জাতিক ইস্যু এলেই বইমেলার সামনে বিপ্লব!
    আজকাল | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • অয়ন মুখোপাধ্যায়

    ইজরায়েলের নামটা ২০২৭-এর কলকাতা বইমেলার সম্ভাব্য থিম কান্ট্রি হিসেবে উঠতেই বইমেলা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কেউ আপত্তি তুলছেন, কেউ প্রতিবাদের কথা বলছেন, কেউ আবার বয়কটের জন্য কামান দাগছেন। কে মেলায় যাবেন, আর কে যাবেন না, কে স্টল দেবেন, আর কে স্টল দেবেন না—সেই হিসেবও শুরু হয়ে গিয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে আমি আমার কথাটা পরিষ্কার করে গোড়াতেই বলে দিচ্ছি। আমি কলকাতা বইমেলা বয়কটের ডাক কে সমর্থন করছি না। অন্তত এখনও করিনি। কারণ, আমার যুক্তি আপনি ইজরায়েলের রাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলুন, গাজা নিয়ে প্রশ্ন তুলুন, প্যালেস্টাইনের অধিকারের পক্ষে কথা বলুন, আয়োজকদেরও জবাব দিতে বলুন। কিন্তু দয়া করে প্রতিবাদ আর বয়কটকে এক করে ফেলবেন না। কামান যদি ইজরায়েলের দিকে তাক করেন, আগে দেখে নিন গোলাটা শেষ পর্যন্ত কার ঘরে গিয়ে পড়ছে।

    তথ্যটাও পরিষ্কার করে জানা দরকার। প্রথমত ২০২৭-এর ৫০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয়ত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরকে আয়োজকেরা কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে করতে চান। এবং তৃতীয়তঃ ইজরায়েলের নাম থিম কান্ট্রি হিসেবে সংগঠকরা ভাবছেন, কিন্তু এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই একশ্রেণির মানুষের মধ্যে গোটা মেলাকে বয়কটের ডাক দেওয়া আমার কাছে মনে হয়েছে বড্ড বেশি তাড়াহুড়ো এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত। যদি আপনার এই বিষয়ে আপত্তি থাকে তাহলে বিকল্প প্রস্তাব আপনি বা আপনারা প্রথমে আপত্তি জানান, আয়োজকদের কে অবস্থান স্পষ্ট করতে বলুন, সিদ্ধান্ত বদলানোর দাবি তুলুন। সব রাস্তা খোলা থাকতে নিজেই রাস্তা ছেড়ে বেরিয়ে গেলে প্রতিবাদের শক্তি বাড়ে না, বরং দুর্বল হয়।

    তার চেয়েও বড় কথা, বইমেলায় সবাই একই কাজে যান না। কেউ স্টল দেন, কেউ বই লেখেন, কেউ বই কেনেন, কেউ লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে বসেন। কেউ নতুন প্রকাশকের খোঁজ করেন, কেউ সারা বছর পরে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেন। বইমেলার সঙ্গে ছাপাখানা, বাঁধাই, পরিবহণ, খাবারের দোকান, অস্থায়ী শ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী—অসংখ্য মানুষের রোজগার জড়িয়ে আছে। একজন পাঠক মেলায় না গেলে একটা বিকেল হারান। একজন ছোট প্রকাশক স্টল না দিলে তাঁর বছরের হিসেব নড়ে যেতে পারে। এই দু'জনকে একই রাজনৈতিক নির্দেশ দিলে বাস্তবের তফাতটাই তো মুছে যায়।

    আজকের রাজনীতি আমাদের একটা কাজ খুব ভালো শিখিয়ছে। প্রথমে প্রশ্নটাকে দু’টুকরো করে দিন, তারপর বলুন—যেকোন একটা দিক বেছে নিন। নয় আপনি ইজরায়েলের পক্ষে, নয় আপনি প্যালেস্টাইনের পক্ষে? নয় আপনি মেলার পক্ষে, নয় আপনি বয়কটের পক্ষে? আপনি যদি বলেন, ‘আমার উত্তরটা এত ছোট নয়’, তখনই রাষ্ট্র আপনাকে সন্দেহ করবে। অথচ একজন মানুষ একই সঙ্গে হামাসের ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করতে পারেন, গাজায় ইজরায়েলি সামরিক অভিযানে সাধারণ মানুষের বিপুল মৃত্যু ও ধ্বংসের বিরোধিতা করতে পারেন, ইহুদি-বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান করতে পারেন এবং প্যালেস্টাইনের রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষেও দাঁড়াতে পারেন। এই চারটে অবস্থানের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। বিরোধ তৈরি হয় তখনই, যখন কেউ আপনার হাতে দুটো বাক্স ধরিয়ে বলে—একটায় টিক মারুন।

    ‘বয়কট’ কথাটার অর্থও তাই পরিষ্কার করা দরকার। কোনও প্রকাশক বলতে পারেন, ‘আমি প্রতিবাদে স্টল নেব না।’ কোনও পাঠক বলতে পারেন, ‘আমি এবার মেলায় যাব না।’ দুটোই তাঁদের অধিকার। কিন্তু যখন কেউ অন্য প্রকাশক, লেখক, পাঠক বা লিটল ম্যাগাজিন কর্মীকেও বলেন, ‘আপনারাও যাবেন না’, তখন তিনি আর শুধু নিজের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না; তিনি অন্যদের সামনে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি রাখছেন। এখানেই আলবার্ট হির্শম্যানের Exit আর Voice-এর কথা মনে পড়ে। অসন্তুষ্ট মানুষ প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে পারেন, আবার ভিতরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদও করতে পারেন। আমি কলকাতা বইমেলার ক্ষেত্রে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ভিতরে দাঁড়িয়ে যতটা সম্ভব জোরে কথা বলতে চাই।

    কারণ বয়কটের বিল সবাই সমানভাবে মেটাতে পারেন না। একটা লিটল ম্যাগাজিনের কয়েকজন তরুণ সারা বছর টাকা জোগাড় করে পত্রিকা ছাপে। বানান ভুল থাকে, খারাপ প্রচ্ছদ, তবু দশ কপি বিক্রি হলে তারা পরের সংখ্যা ছাপার সাহস পায়। একজন ছোট প্রকাশক নিজের সঞ্চয় ভেঙে তিনটে নতুন বই ছাপেন, তারপর বইমেলার বিক্রির দিকে তাকিয়ে থাকেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান আমি নিলাম, আর বিলটা মেটাল এই মানুষগুলো—এই অঙ্কটা আমার কাছে ঠিক মেলে না।

    বাংলায় সাংস্কৃতিক বয়কটের অভিজ্ঞতাও কিন্তু আমাদের কাছে নতুন নয়। রাজনৈতিক পালাবদলের আগে-পরে আমরা নানা সাংস্কৃতিক পরিসর ঘিরে বয়কটের ডাক শুনেছি। কেউ স্টল নেননি, কিন্তু দর্শক হিসেবে গেছেন। কেউ নির্দিষ্ট আয়োজকের সঙ্গে কাজ করেননি, কিন্তু মেলাটা ছেড়ে দেননি। এই তফাত খুব জরুরি। নিজের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করা এক কথা; গোটা সমাজকে সেই পরিসর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বলা আরেক কথা। প্রথম ক্ষেত্রে আমি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের দায় নিই। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আমি অন্যের অবস্থানও ঠিক করে দিতে চাই।

    ইজরায়েলের রাষ্ট্রনীতি যদি কলকাতা বইমেলা বয়কট করার যথেষ্ট কারণ হয়, তা হলে সেই নীতির সীমানাটা কোথায় টানব? ভারত ও ইজরায়েল ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক আছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে ইজরায়েল সফর করেছেন। তাহলে কী করব? বিজেপির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বয়কট করব? বিজেপি পরিচালিত সরকারের অনুষ্ঠান? সরকারি মঞ্চ? সরকারি অনুদান? নাকি শুধু বইমেলাকেই নৈতিকতার পরীক্ষার ঘর বানাব? আমি কোনও উত্তর চাপাচ্ছি না। শুধু নিয়মটা জানতে চাইছি। একই নীতি যদি জায়গা পাল্টালেই বদলে যায়, তখন তাকে নৈতিকতা বলা কঠিন।

    তবে ইজরায়েলকে থিম কান্ট্রি করার সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তিকে আমি একটুও ছোট করছি না। কোনও রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মেলায় শুধু কবিতা, উপন্যাস বা গল্প নিয়ে আসে না; নিজের একটি নির্বাচিত ছবি কেউ সঙ্গে নিয়ে আসে। বিশিষ্ট রাষ্ট্রনীতিবিদরা এই প্রভাব তৈরির ক্ষমতাকেই soft power বলেছিলেন। কোনও রাষ্ট্রকে সব সময় সেনা পাঠায়  না। বরং সে সিনেমা দেখায়, নতুন নতুন লেখক কে পাঠায়, প্রদর্শনী করে, তার খাদ্য সংস্কৃতিকে তুলে ধরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য কে সামনে আনে। ইজরায়েল যদি থিম কান্ট্রি হয়, আমাদের সরাসরি জিজ্ঞেস করা উচিত—কোন ইজরায়েলকে আপনি দেখাবেন? তেল আভিভের সাহিত্য কে আপনি দেখাবেন , নাকি গাজার ধ্বংস কে আপনি তুলে ধরবেন? সেখানে আপনি প্রশ্ন করতেই পারেন বা আমাদের প্রশ্ন থাকবে ইজরায়েলি লেখকরা তো কলকাতা বইবেলায় আসবেন সেখানে দাঁড়িয়ে একজন, প্যালেস্টাইনি লেখক কি একই জায়গা পাবেন?

    গ্রামশি দেখিয়েছিলেন, কোনও শাসক শুধু পুলিশ আর প্রশাসন দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন না; তাঁকে মানুষের সম্মতিও অর্জন করতে হয়। সেই কাজে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সংবাদমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীদেরও ব্যবহার করা হয়। তাই সাংস্কৃতিক মেলাকে রাজনীতির বাইরের নিরীহ জায়গা বলে ভাবার কারণ নেই। সরকার নিজের পছন্দের ইতিহাস, বক্তা বা ছবি সামনে আনতে পারে। এই কারণেই আমি মেলার মাঠ ছেড়ে দিতে চাই না। বরং সেই মাঠেই আরও বড় প্রশ্ন তুলতে চাই।

    হান্না আরেন্টের সতর্কতাও এখানে মনে রাখা দরকার। ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড যেমন ঘটনা, গাজার ধ্বংসও তেমন ঘটনা। একটা ঘটনা দেখিয়ে আরেকটা কে আড়াল করলে সেটা ইতিহাস হয় না, বরং সেটা প্রচার হয়ে দাঁড়ায়। এখন আমরা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে মৃত মানুষের পরিচয় না জেনে কেউ কেউ শোকও করতে পারেন না। ইজরায়েলি হলে এক পক্ষ কাঁদে, প্যালেস্টাইনি হলে অন্য পক্ষ। যেন মৃত্যুর পরেও মানুষকে আগে রাজনৈতিক পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।

    রবীন্দ্রনাথ জাতীয়তাবাদের এই বিপদ অনেক আগেই দেখেছিলেন। দেশের প্রতি ভালোবাসা তাঁর আপত্তির জায়গা ছিল না; আপত্তি ছিল তখন, যখন সংগঠিত জাতীয় স্বার্থ মানুষের নৈতিক বিচারকে গ্রাস করে। আজ সেই প্রশ্নটাকে এভাবে করা যায়—নেতানিয়াহুর সরকার আর একজন ইজরায়েলি কবি কি একই সত্তা? হামাস আর গাজার একটি শিশু কি একই রাজনৈতিক পরিচয়? কোনও সরকারের কাজের দায় সেই দেশের প্রতিটি মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে রাষ্ট্র আর মানুষের তফাতটাই মুছে যায়।

    ইতিহাসও এই কারণেই আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে। ১৯৪৮ কারও কাছে ইজরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম, কারও কাছে নাকবা। বেনি মরিস, রশিদ খালিদি, আভি শ্লাইম ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে এই সংঘাতের ইতিহাস খুঁড়েছেন। তাঁদের কাজ পড়লে বোঝা যায়, কোনও একপক্ষের সুবিধাজনক গল্প দিয়ে এই ইতিহাস ধরা পড়েনি। মনে রাখবেন স্লোগান এক লাইনে শেষ হয়। ইতিহাস কিন্তু এত সহজে শেষ হয় না।

    তাই ইজরায়েল শেষ পর্যন্ত থিম কান্ট্রি হলে আমি বয়কটের বদলে অন্য এক দাবি তুলব। ইজরায়েলি সাহিত্য আনুন, প্যালেস্টাইনি সাহিত্যও আনুন। হলোকস্ট নিয়ে আলোচনা করুন, নাকবা নিয়েও করুন। ৭ অক্টোবর নিয়ে বলুন, গাজার ধ্বংস নিয়েও বলুন। ইজরায়েলি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এলে সরকারবিরোধী ইজরায়েলি লেখককেও ডাকুন। প্যালেস্টাইনি লেখক, কবি ও গবেষকদের মঞ্চ দিন। মাহমুদ দারবিশ, ঘাসান কানাফানি, আদানিয়া শিবলির লেখা আরও বেশি করে বাংলা পাঠকের হাতে পৌঁছে দিন। ইজরায়েল নিজের ছবি দেখাক, তার পাশে অন্য ছবিটাও রাখুন। পাঠক নিজে বিচার করুন।

    আর যাঁরা সারা বছর বাংলা বই, লিটল ম্যাগাজিন বা ছোট প্রকাশকের খবর রাখেন না, কিন্তু আন্তর্জাতিক কোনও ইস্যু এলেই বইমেলার সামনে বিপ্লবের কাউন্টার খুলে বসেন, তাঁদেরও একটু হিসেব করার সময় এসেছে। নিরাপদ দূরত্বে বসে থাকা বুদ্ধিজীবীদের কাছে কলকাতা বইমেলায় আন্তর্জাতিক কূটনীতির আগে জীবনের বাস্তব জায়গা টাকেও বোঝা দরকার। প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেই জায়গাটা কেই ভেঙে ফেললে  কাকে আঘাত করলাম, সেটা অন্তত একবার ভেবে দেখবেন 

    এই কারণেই দুর্গাপুজোর সঙ্গে বইমেলার একটা সীমিত তুলনা করছি। কোনও সরকার দুর্গাপুজোকে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করেছে বলে আমরা গোটা উৎসব কিন্তু বয়কট করিনি। কোনও পুজো কমিটি খারাপ বলে সমস্ত মানুষকে ঠাকুর দেখতে বারণ করিনি। কারণ আয়োজকের উদ্দেশ্য আর লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণ এক জিনিস নয়। কলকাতা বইমেলাও বহুদিন আগে শুধু গিল্ডের অনুষ্ঠান থাকার সীমা পেরিয়েছে।

    তৃণমূলের আমলে বইমেলার মঞ্চে রাজনৈতিক দখলদারি দেখলে আমি তার বিরোধিতা করেছি। বিজেপি সরকার একই কাজ করলে তাকেও একই ভাষায় প্রশ্ন করব। সরকার বদলাবে, কিন্তু আমরা আমাদের মাপকাঠি বদলাবে কেন? গতকাল যে কাজকে দখলদারি বলেছি, আজ নিজের পছন্দের দল করলে তাকে সংস্কৃতি বলতে পারি না।

    তাই আমার অবস্থান পরিষ্কার। আমি এখনও কলকাতা বইমেলা বয়কট করব না। কেউ ব্যক্তিগতভাবে না গেলে তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করব। কোনও প্রকাশক স্টল না নিলে সেটাও তাঁর অধিকার। কিন্তু সর্বজনীন বয়কটের ডাক এলে আমি তিনটে প্রশ্ন করব—কাকে বয়কট করছেন, কেন করছেন, আর খরচটা কে দিচ্ছে? আমি পক্ষহীন নই; অন্যায় দেখলে পক্ষ নেব, কিন্তু আমার পক্ষ আমি নিজেই ঠিক করব। সরকার, দল বা সামাজিক মাধ্যমের জটলা আমার হয়ে সেই সিদ্ধান্ত নেবে না। ইজরায়েলের রাষ্ট্রনীতির প্রতিবাদ করুন, প্যালেস্টাইনের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ান, হামাসের সন্ত্রাসের বিরোধিতা করুন, ইহুদি-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কথা বলুন, বইমেলার রাজনৈতিক ব্যবহারকেও প্রশ্ন করুন। কিন্তু যে ছেলেটা লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে বসবে, যে ছোট প্রকাশক নিজের সঞ্চয় ভেঙে স্টল নেবে, যে পাঠক পকেটের টাকা গুনে বই কিনতে আসবে—তার ঘাড়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির শাস্তি চাপাবেন না। দয়া করে বইমেলাকে ব্যালট বাক্স আর আনুগত্য পরীক্ষার মেশিনে পরিণত করবেন না। শাসক নিজের রাজনীতি করবে—তাকে প্রশ্ন করা আমাদের দায়িত্ব; তার বিকল্প তৈরি করাও আমাদের দায়িত্ব। বই কিনুন, তর্ক করুন, প্রশ্ন করুন। পক্ষ চাইলে রাজপথে নিন। কিন্তু পাঠকের মাথার ভিতরে নিজের পতাকা গুঁজে দেবেন না।
  • Link to this news (আজকাল)