আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুজোর বাকি আর মাত্র ৩৭ দিন। ইতিমধ্যেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। এবারের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্বোধনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনে সম্মতি দিয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কোন দিন উদ্বোধন হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর চেতলা অগ্রণীর পুজোয় এ বার বদল আসতে চলেছে উদ্বোধনের ছবিতেও। এতদিন এই পুজোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন প্রাক্তন মেয়র তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। দীর্ঘদিন ধরে চেতলা অগ্রণীর পুজো কলকাতার অন্যতম পরিচিত বারোয়ারি পুজো হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
তৃণমূল সরকারের আমলে প্রায় প্রতি বছরই চেতলা অগ্রণীর পুজোর উদ্বোধনে দেখা যেত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে। শুধু উদ্বোধন নয়, প্রতিমার চক্ষুদানের অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিতি ছিল এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। ২০২৫ সালেও মহালয়ার দিন চেতলা অগ্রণীতে গিয়ে দেবীর প্রতীকী চক্ষুদান করেছিলেন মমতা।
এ বার সেই পরিচিত ছবিতেই বদল আসতে চলেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রথম বার চেতলা অগ্রণীর পুজোর উদ্বোধনে দেখা যেতে পারে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। ফলে পুজোর পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও এই উদ্বোধন ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
চেতলা অগ্রণী ক্লাবের সভাপতি সব্যসাচী রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীকে পুজো উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে উদ্বোধনের তারিখ এখনও জানানো হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী দেবীর চক্ষুদান করবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। যদিও ক্লাব সূত্রে এখনও এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সাধারণত পুজোর প্রায় ১০ দিন আগে বৈঠক করে উদ্বোধন ও চক্ষুদান-সহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করা হয়।
চেতলা অগ্রণী এ বারও থিম ও মণ্ডপসজ্জায় বিশেষ চমক রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত বছরের মতো এ বারও শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মণ্ডপ ও প্রতিমার কাজের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ফলে একদিকে পুজোর প্রস্তুতি, অন্যদিকে রাজনৈতিক পালাবদল—দুইয়ের মেলবন্ধনে এ বার চেতলা অগ্রণীর উদ্বোধন যে আলাদা মাত্রা পেতে চলেছে, তা বলাই যায়। একসময় যে পুজোর উদ্বোধনে নিয়মিত দেখা যেত মমতা ব্যানার্জিকে, এবার সেই মঞ্চেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে কলকাতার পুজোর অন্যতম আলোচিত ছবি হতে চলেছে।