• চিটফান্ড কাণ্ডে অভিযুক্ত কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল!
    আজকাল | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপালের দেহরক্ষী এবার চিটফান্ড কাণ্ডে অভিযুক্ত। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগর পালের দেহরক্ষী কনস্টেবল পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধেই লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ চিটফান্ডের নাম করে। ২০২৪ সালে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এখানে অতিরিক্ত কমিশনার নীলাঞ্জন বিশ্বাসের দেহরক্ষী সঞ্জীব সাহা নিজেকে এসডিএফএক্স গ্লোবালের এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জনৈক প্রসেনজিৎ এবং দিলীপকে এই চিটফান্ড সংস্থা টাকা বিনিয়োগ করতে বলেন। তবে চিটফান্ড সংস্থাটির অ‍্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা না দিয়ে নিজেই সেই টাকা নেন সঞ্জীব। যুক্তি ছিল, টাকা সংস্থাকে দিলে ডলারে টাকা আসবে। তা পেতে দেরি হবে। তাই তাঁর মাধ‍্যমে দিলে অন‍্যভাবে তা মধ‍্যস্থতা করবেন। তার ওপর বিশ্বাস করে প্রসেনজিতবাবু এবং দিলীপবাবু টাকা দিয়ে দেন।

    কয়েক দিন যাওয়ার পরে কিছু টাকা ফেরৎ পেলেও বাকি টাকা আর সঞ্জীব দেয়নি। তাঁদের বক্তব্য, টাকা চাইলে হুমকি দেওয়া হত। নিজেকে পুলিশকর্মী বলে ভয় দেখাতেন সঞ্জীব সাহা। তৃণমূল জমানায় অভিষেক ব্যানার্জির নাম করেও ভয় দেখান হয়েছে বলে অভিযোগ।

    এ ছাড়াও, পুলিশকর্মী সঞ্জীব সাহা নিজে এসডিএফএক্স গ্লোবালের আরেক কর্মী সুপ্রতিম দাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে ছিলেন। প্রসেনজিতের কথা মতো, সুপ্রতীমের অ‍্যাকাউন্টেও টাকা দিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ এবং দিলীপ। তাঁর কাছে বকেয়া টাকা চাইতে গেলে, তিনিও হুমকি দেন বলে অভিযোগ। সুপ্রতীম নাকি বলেছিলেন, “সংস্থার মাথায় অভিষেক ব্যানার্জির হাত আছে। তাই আপনারা কিছু করতে পারবেন না।” এই সংস্থাটি আদতে মেদিনীপুর থেকে অপারেট করে বলে দাবি করা হয়েছে।

    খাস কলকাতায় চিট ফান্ড সংস্থার হয়ে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণারর অভিযোগ। অভিযুক্ত কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নীলাঞ্জন বিশ্বাসের দেহরক্ষী বলে জানা গিয়েছে। স্বল্প বিনিয়োগে মোটা টাকা সুদ নিতে ওই পুলিশকর্মীকে টাকা দিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। উপভোক্তাদের অভিযোগ, কয়েকটি কিস্তিতে টাকা দিলেও পরে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বকেয়া টাকা চাইলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

    সেই টাকা ফেরৎ পেতে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়ালের দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছেন দু’জন। উপভোক্তা দু’জনেই শ‍্যামপুকুরের বাসিন্দা। প্রসেনজিৎ ঘোষাল এবং দিলীপ সর্দার নামে দুই উপভোক্তা কুণাল আগরওয়াল ছাড়াও কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর দফতর) সুদীপ সরকারকে ই-মেল মারফত বিষয়টি জানিয়েছেন।

    সঞ্জীব সাহা রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার নীলাঞ্জন বিশ্বাসের দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত। তাঁর বন্ধু দিলীপ সর্দারও সঞ্জীবের মাধ‍্যমে দু’লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। সূত্রের খবর, প্রসেনজিৎ, সঞ্জীব এবং দিলীপ একে অপরকে চিনতেন। তাঁরা বাল‍্যবন্ধু। প্রসেনজিতবাবুর কথায়, "একেই বন্ধু। তার ওপর পুলিশে চাকরি করেন। তাই ভরসা করে টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন টাকা পাচ্ছি না।"

    ঘটনায় এখনও এফআইআর হয়নি। তবে লালবাজারের আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখার গোয়েন্দারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। আইপিএস অফিসার নীলাঞ্জন বিশ্বাস তাঁর দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে তদন্তে সম্মতি জানিয়েছেন।
  • Link to this news (আজকাল)