আড়াই দশক পর সুব্রত কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলার স্কুল, উৎসবে মাতল ঝাড়গ্রাম
প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনীপা চক্রবর্তী
স্বপ্নপূরণের রাত! জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত মানিকপাড়া থেকে ফুটবলে দেশের সেরা ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ। বুধবার ৬৫তম সুব্রত কাপের অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগের ফাইনালে অসমের কামরূপ মেট্রোপলিটন সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলার এই স্কুল। মানিকপাড়া বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের হাত ধরে আড়াই দশক পর পশ্চিমবঙ্গের কোনও স্কুল এই আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন হল। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের এনসিসি এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলেও বাংলার কোনও স্কুল শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০০ সালে। সে বছর খেতাব জিতেছিল পুরুলিয়ার রাঙাডিহা স্কুল।
ম্যাচের একমাত্র গোলটি ৪৬ মিনিটে ছোটরাম হেমব্রমের। শেষ মুহূর্তে অসমের স্কুলের নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে জয় নিশ্চিত করে গোলরক্ষক সনাতন হাঁসদা। প্রতিযোগিতার সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে। ঐতিহ্যবাহী সুব্রত কাপে প্রথম ম্যাচ থেকেই মানিকপাড়ার ছেলেদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২৫ মিনিটের দুই অর্ধ মিলিয়ে ৫০ মিনিটের খেলায় প্রথমার্ধে চারটি শট এবং দু’টি কর্নার আদায় করে নেয় মানিকপাড়া। গোল না এলেও প্রতিপক্ষ অসমের উপর চাপ বজায় রেখেছিল তারাই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে অসমের দল। মাঠের বাইরে থেকে তখন একটানা ছেলেদের নির্দেশ দিয়ে চলেছেন কোচ তথা ক্রীড়া শিক্ষক নন্দদুলাল ভৌমিক। শেষ পর্যন্ত ডেডলক ভাঙে ছোটরাম। ৪৬ মিনিটে তার গোলেই এগিয়ে যায় ঝাড়গ্রামের স্কুল। তারপর সমতা ফেরানোর হাজারো চেষ্টা করেও সফল হয়নি অসমের স্কুল।
এই সাফল্যের নেপথ্যে বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের শিক্ষক নন্দদুলাল। তিনি নিজেও এক সময় সুব্রত কাপের ক্লাস্টার পর্যায়ে (তৃণমূল স্তরের খেলাধুলার প্রথম ধাপ) খেলেছেন। জাতীয় পর্যায়ে সেরা হওয়ার স্বপ্ন তখন থেকেই। ২০০৮ সালে মানিকপাড়া স্কুলে ক্রীড়া শিক্ষক হিসাবে যোগ দেওয়ার পর সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার লড়াই শুরু করেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে স্কুলে শুরু হয় ফুটবল প্রশিক্ষণ। এত দিনের পরিশ্রমের ফল মিলল বেঙ্গালুরুতে। নন্দদুলালের কথায়, “ছেলেদের বলেছিলাম, এই সুযোগ বারবার আসবে না। জিততেই হবে। ওরা কথা রেখেছে।” সেরা কোচের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
প্রধানশিক্ষক শৈবাল মহাপাত্রের কথায়, “২০০৯ সাল থেকে আমাদের স্কুলে ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল। আজ সেই লড়াই সার্থক হল। আমি আমার ছাত্র এবং ক্রীড়া শিক্ষকের কাছে কৃতজ্ঞ।” এমন ঐতিহাসিক সাফল্যের পর উৎসবে মেতেছিল মানিকপাড়াও। স্কুল ছাড়াও এলাকার দু’টি জায়গায় বড় পর্দায় দেখানো হয় ফাইনাল। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের বিধায়ক কার্যালয়েও হয়েছিল খেলা দেখার আয়োজন। তাঁর কথায়, “ঝাড়গ্রামের ছেলেরা বাংলার মান রাখল।” এবার উৎসবের পালা বেঙ্গালুরুতেও। সুব্রত কাপের অন্যতম আয়োজক বায়ুসেনার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বাসে বেঙ্গালুরু ঘুরবে মানিকপাড়ার দল। শুক্রবার বিমানে ফেরার কথা তাদের।