• প্রথম ডাক্তার মহকুমাশাসক বিনায়কের চোখ ডেঙ্গি-দমনে
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সূর্যকান্ত কুমার, কালনা

    চিকিৎসক হিসেবে কাজ করলে শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হতো, কিন্তু সমাজের সমস্ত ক্ষেত্রের মানুষের পাশে থেকে সামগ্রিক সেবা করার অদম্য ইচ্ছাই তাঁকে প্রশাসনিক সেবার দিকে টেনে এনেছে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই এমবিবিএস পড়ার পাঠ চুকিয়ে সোজাসুজি আইএএস অফিসার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিনায়ক কুমার। ২০২৪ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ২৬ বছর বয়সি এই আইএএস অফিসার সদ্য কালনার মহকুমাশাসক (এসডিও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। ঐতিহাসিক কালনা মহকুমার প্রশাসনিক ইতিহাসে তিনি প্রথম মহকুমাশাসক, যিনি একাধারে একজন যোগ্যতা সম্পন্ন চিকিৎসকমণ্ডলীর সদস্যও বটে।

    রাজস্থানের বাসিন্দা বিনায়ক কুমার পারিবারিক ভাবেই প্রশাসনিক আবহে বড় হয়েছেন। তাঁর বাবা আনন্দ কুমার ১৯৯৪ ব্যাচের একজন আইএএস অফিসার এবং বর্তমানে রাজস্থান সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা। বিনায়ক ২০২৪-এ রাজস্থানের নামজাদা সওয়ায় মান সিং মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পরে সফল ভাবে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন। একই বছরে সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাতেও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন তিনি। প্রবেশনারি মেয়াদে প্রশাসনিক কাজের প্রথম পাঠ নেওয়ার পরে কালনার মহকুমাশাসক হিসেবেই তাঁর প্রথম দায়িত্বভার গ্রহণ।

    চিকিৎসা পেশা ছেড়ে প্রশাসনিক সেবায় আসার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মহকুমাশাসক বিনায়ক কুমার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'চিকিৎসক হলে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগেরই কাজ করতে পারতাম, কিন্তু আইএএস হলে সব বিভাগেরই কাজ করতে পারব, সেই জন্যই আইএএস হওয়া।' পদে যোগ দেওয়ার পরে প্রশাসনিক কাজের চাপে এখনও কালনা মহকুমা হাসপাতাল কিংবা ব্লকের অন্য কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরাসরি পরিদর্শনে যাওয়া হয়নি তাঁর। তবে এই বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করে জানান, শিগগিরই ওই সব হাসপাতালে পরিদর্শনে যাবেন তিনি।

    বর্তমানে মহকুমা এলাকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে, বিশেষত ডেঙ্গি সংক্রমণ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত মহকুমা প্রশাসন। বিশেষ করে পূর্বস্থলী এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ কিছুটা বেশি থাকায় বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার কথা ভাবছেন তিনি। সচেতনতা বৃদ্ধির উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট সংকল্প জানান। মহকুমা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে নিজে একজন ডাক্তার বসে থাকায় কালনা এলাকার সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোগত অনেক উন্নতি হবে বলে আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • Link to this news (এই সময়)