• নিজের ক্ষতির ইচ্ছে সামলে দেবে চেতনা
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মৃত্তিকা ভট্টাচার্য

    ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন কারও বাবা। কারও অভিভাবকের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে ভেঙে গিয়েছে পরিবার। শরীর নিয়ে বুলিং বা যৌন হেনস্থা, ইস্যুগুলো ভিন্ন। রোগ একটাই, অবসাদ। আর তার থেকেই নিজের ক্ষতি করে ফেলতে চাওয়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বালিকা বিদ্যালয়ের দশমের ছাত্রীদের নিয়ে আলোচনায় মনস্তত্ত্ববিদরা। বসেছেন আত্মহত্যা দমনের পাঠ দিচ্ছেন। তার ফাঁকেই এক ছাত্রী বলে উঠল, 'আমরা বন্ধুরা আমাদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং করে আত্মহত্যা রুখতে পারি না?' মনোবিদ হেসে বললেন, 'এটাই সচেতনতা।'

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো-র রিপোর্ট বলছে, দেশে একলাখ মানুষের মধ্যে ১২ জন আত্মঘাতী হন। টিনএজে আত্মহত্যার প্রবণতার গ্রাফটাও উদ্বেগের। ১০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে এবং ১০-১৫ তারিখ ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন উইক উপলক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে আত্মহত্যা দমনমূলক একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও মানসিক স্বাস্থ্য প্রোগ্রাম। রয়েছে স্কুলে স্কুলে গিয়ে আত্মহত্যা দমন ও কোপিং স্কিলের প্রশিক্ষণ। থাকছে একটি ট্যাবলো।

    যেটি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে রাজ্য সরকারের টোল ফ্রি মেন্টাল হেলথ হেল্পলাইন নম্বর ১৪৪১৬-এর প্রচার চালাবে। স্বাস্থ্য দপ্তর মনে করছে- শুধু আত্মহত্যা দমনে সচেতন করলেই হবে না। ফ্রাস্ট্রেশন, মন খারাপ বা ভেঙে পড়লে সামলে ওঠার জন্য বিশেষ জোর দিতে হবে এই 'কোপিং স্কিলে'র উপরে।

    মনোবিদদের বক্তব্য, সিলেবাসে বয়ঃসন্ধির চ্যাপ্টার থাকলেও ছেলেমেয়েদের মানসিক নানা পরিবর্তনের বিষয়গুলো খোলামেলা ভাবে আলোচনার অভাব রয়েছে। ঠিকমতো সেক্স এডুকেশনও তাদের দেওয়া হয় না। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধৈর্যের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একটু হতাশা, অবসাদ, সামান্য কিছু না-পাওয়া থেকেই তারা নিজের ক্ষতি করে বসছে। তাই এই কর্মসূচিতে ছাত্র সমাজকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভাঙড় বালিকা বিদ্যালয়ের পাশাপাশি, ভাঙড় মহাবিদ্যালয়, বোদরা হাইস্কুল, বারুইপুর হাইস্কুলে রয়েছে বিভিন্ন প্রোগ্রাম।

  • Link to this news (এই সময়)