• সম্পত্তির লোভে বাবাকে হাত-পা বেঁধে খুন ছেলের, বারুইপুরে ধৃত বৌমা
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, বারুইপুর: সম্পত্তির লোভে নিজের জন্মদাতা বাবাকেই হাত-পা বেঁধে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। সেই নির্মম কাজে সঙ্গ দিল পুত্রবধূ। চূড়ান্ত অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুর থানার শিখরবালি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ধনবেড়িয়া গ্রামে। নিহত বৃদ্ধের নাম জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নস্কর (৭২)। অভিযুক্ত ছেলের নাম রামপ্রসাদ নস্কর ও পুত্রবধূর নাম শিখা নস্কর।

    প্রতিবেশীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওই বাড়িতে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছিল। অভিযোগ, সম্পত্তি জোর করে লিখে নিতে চাইছিল ছেলে-বৌমা। অভিযোগ, বৃদ্ধ রাজি না হওয়ায় ছেলে রামপ্রসাদ ও পুত্রবধূ শিখা মিলে বৃদ্ধের হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর শুরু করে। শাবল দিয়ে শরীরের একাধিক জায়গায় খুঁচিয়ে আঘাত করা হয় তাঁকে। যন্ত্রণায় বৃদ্ধ আর্তনাদ করলেও তাঁকে ঘরের বাইরে বেরোতে দেওয়া হয়নি। বরং দরজা বন্ধ করে মারধরের মাত্রা বেড়ে যায়।

    মারধরের সময় অভিযুক্ত শিখার চোখে আঘাত লাগে। গুরুতর আহত, রক্তাক্ত বাবাকে ঘরে ফেলে রেখে ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে চলে যায়। তখনও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঘরের মধ্যে পড়ে থাকেন অসহায় বৃদ্ধ। বিকেলে ছেলে ও বৌমা বাড়ি ফিরে দেখে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘরের বিছানা ও তোশকে চাপ চাপ রক্তের দাগ। ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে দম্পতি। যদিও পরে আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। বারুইপুর থানার পুলিশ পুত্রবধূ শিখা নস্করকে গ্রেপ্তার করেছে। যদিও পুলিশ যাওয়ার আগেই গুণধর ছেলে রামপ্রসাদ পলাতক।

    এই ঘটনায় নিহতের ভাইপো সূর্যকান্ত নস্কর বলেন, 'কাকাকে মারধর করে রামপ্রসাদ আমাকে ফোন করে বাড়িতে আসতে বলে। এসে দেখি কাকার দেহ বিছানায় শোয়ানো, বিছানায় ও তোশক রক্তে ভেসে যাচ্ছে।' প্রতিবেশী গৃহবধূ আল্পনা নস্কর বলেন, 'যখন মারধর করছিল তখন আমরা আওয়াজ পেয়েছিলাম।' বৃদ্ধের আত্মীয় ছায়া নস্কর বলেন, 'সম্পত্তি জোর করে লিখিয়ে নিতে চাইছিল রামপ্রসাদ আর ওর বৌ। উনি লিখে দেননি বলেই মারধর করা হচ্ছিল। আমি মারধরের আওয়াজ ও ওনার আর্তনাদ শুনতে পেয়েছি।' তবে প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা মারধরে বৃদ্ধের আর্তনাদ শুনেও কেন কেউ প্রতিবাদ করেননি বা তাঁকে বাঁচাতে আসেননি সেই প্রশ্ন উঠছে।

    ধৃত শিখাকে বুধবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পলাতক ছেলের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী।

  • Link to this news (এই সময়)