• রেজিনগর জিততে একাধিক বিধায়ককে দায়িত্ব বিজেপির, উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ঝরল রক্ত
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। নন্দীগ্রাম নিশ্চিন্ত আসন হলেও রেজিনগর বেশ চাপের আসন। কিন্তু দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই জয় পেতে মরিয়া বঙ্গ-বিজেপি। তাই নন্দীগ্রামের জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু চ্যালেঞ্জ তো রেজিনগর জেতা। জনবিন্যাসের তথ্য অনুযায়ী, এই বিধানসভা কেন্দ্রে ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটারের বাস। এই পরিস্থিতিতে রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে বৈঠক করেছে বিজেপি। বহরমপুরে একটি হোটেলে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে করেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী। টানা তিন ঘণ্টার বৈঠকে রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেছেন তিনি বলে সূত্রের খবর।

    আর সেই স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী, প্রত্যেকটি মণ্ডলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিধায়কদের। জানা গিয়েছে, রেজিনগরের চারটি মণ্ডলের দায়িত্বে থাকবেন বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র, বড়ঞার বিধায়ক সুখেন বাগদি। আর দায়িত্বে থাকছেন বেলডাঙার বিধায়ক ভরত ঝাওর। এমনকী দায়িত্বে রাখা হয়েছে জেলার দুই মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এবং গার্গী ঘোষ দাস। প্রার্থী হিসাবেও দুটি নাম শোনা যাচ্ছে বিজেপি অন্দর থেকে। এক, বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শাখারভ সরকার। দুই, বিজেপির জেলা সভাপতি মলয় মহাজন।

    কিন্তু রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। তুমুল সংঘর্ষের জেরে রক্ত ঝরল। যা নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ল। বৃহস্পতিবার থেকে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। বৃহস্পতিবার সকালে চায়ের দোকানে সামান্য কথা কাটাকাটি থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। ক্রমশ সেটা রাজনৈতিক সংঘর্ষের রূপ নিয়ে নিল। যার জেরে ঝরল রক্ত। এলোপাথাড়ি ছুরির কোপে জখম হলেন অন্তত চারজন। তাঁদের তড়িঘড়ি ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। আহতদের মধ্যে একজন স্থানীয় তৃণমূল নেতাও আছেন বলে জানা গিয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রেজিনগর থানার ছেতিয়ানি এলাকায় একটি চায়ের দোকানে দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। তখন ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাথারি কোপানো হয়েছে কয়েকজনকে। তাতে অন্তত চারজন জখম হন। তাঁদের বেলডাঙা ব্লক হাসপাতাল এবং মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরনো বিবাদের জেরেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’-র সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। আজিজুল শেখ নামে তৃণমূল কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্য এই হামলায় জখম হন। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেজিনগর থানা। সেখানে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল।

    তাছাড়া রেজিনগরের উপনির্বাচন নিয়ে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেছেন, বিজেপি পুলিশ-প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে রেজিনগরে জেতার চেষ্টা করছে। তার পাল্টা জবাবে রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘হুমায়ুন কবীর ভয় পেয়েছে। হতাশা থেকেই এইসব অভিযোগ করছে। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)