ভাঙন গ্রাসে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে ভূতনি, অস্তিত্ব বাঁচাতে আরও ৫ কোটি আর্থিক বরাদ্দ মুখ্যমন্ত্রীর
প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যেদিকে চোখ যায়, শুধু জল আর জল। রাক্ষুসে ভাঙনের গ্রাসে মালদহের ভূতনি। মাথার ছাদ হারিয়ে অসহায় বাসিন্দারা মাথা গুঁজেছেন ত্রাণ শিবিরে। পেটের জ্বালা মিটছে সরকারি ত্রাণেই। এবার সেখানকার মানুষের কথা মাথায় রেখে ত্রাণ তহবিলে আরও ৫ কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দ মুখ্যমন্ত্রীর। শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বুধবার আকাশপথে ভূতনির ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সরজমিনে পরিদর্শন করে রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিক দল।
প্রবল ভাঙনে প্রায় প্রতি বছর একটু একটু করে গঙ্গা গিলে ফেলে ভূতনির উপকূল। এবছর ‘পরিস্থিতি উদ্বেগজনক’ বলে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট দিয়েছেন চার দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ আধিকারিক। প্রশাসনিক আধিকারিকরা মনে করছেন, আগামিকাল অর্থাৎ শুক্রবার থেকে ভূতনিতে জডলস্তর কমতে পারে। পরিস্থিতির উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী। গোট পরিস্থিতির উপর নজরদারি চলছে রাজ্যের সেচ দপ্তর ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ভূতনির পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে চলছে দফায় দফায় বৈঠক।
বুধবার কপ্টারে মালদহে পৌঁছন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ সিনহা, ডিজি সিভিল ডিফেন্স সঞ্জয় সিং এবং আইজি নর্থবেঙ্গল সুকেশ জৈন। প্রথমে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে ভূতনির বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন তাঁরা। এরপর জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে আকাশপথে বন্যাকবলিত ভূতনির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। কপ্টার থেকে নেমে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বলেন, “ভূতনি পুরোপুরি প্লাবিত। প্রচুর জল সেখানে। এই জল নামতে অনেক দেরি হবে। বন্যা পরিস্থিতির সবদিক এদিন খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানে যেন রোগ না ছাড়ায় সেটা দেখা হচ্ছে। বানভাসিদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ত্রাণ সামগ্রী বিলির কাজ চলছে।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনও গঙ্গার জল চরম বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সেচ দপ্তর সূত্রের খবর, মানিকচক ঘাটে জলস্তর বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার উপরে ছিল। ইতিমধ্যে ভূতনির শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ জলবন্দি। হিরানন্দপুর, উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মঙ্গলবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি মেনে প্রশাসনের তরফে কেটে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলহর নদীর বাঁধ৷ বাঁধের কাটা অংশ দিয়ে উত্তর চণ্ডীপুর এলাকা থেকে গঙ্গার জল ফুলহর নদীর দিকে এগোতে শুরু করেছে৷ বানভাসি চণ্ডীপুরের বাসিন্দাদের বক্তব্য ছিল, ভূতনির একদিকে গঙ্গা, অন্যদিকে ফুলহর৷ তাই যদি দক্ষিণ চণ্ডীপুরের বাঁধ কেটে দেওয়া হয় তবে চর থেকে গঙ্গার জল দ্রুতগতিতে ফুলহরে মিশবে৷ উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ তাতে স্বস্তি পাবে৷ সেটাই হয়েছে। তবে গঙ্গার মতো ফুলহরের জলও ফুসছে। রতুয়ায় মহানন্দাটোলা পুলিশ ফাঁড়ি ও স্থানীয় ডাকঘর ফুলহর নদীর জলে বন্দি হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র জলে তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা স্বাস্থ্য পরিষেবা পাচ্ছেন না।
বৈষ্ণবনগর ও কুম্ভরার মতো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাতেও জল ঢুকেছে। সেখানকার বানভাসিদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, বৈষ্ণবনগর, পারলালপুর সংলগ্ন কিছু এলাকা জলে ভেসেছে। কোথাও দু’ফুট। আবার কোথাও চার ফুট জল দাঁড়িয়েছে। গঙ্গার জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রমশ নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে