কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে তারাপীঠে লাখ লাখ ভক্তের ভিড়। বুধবার সন্ধে থেকেই বীরভূম জেলা প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি তারাপীঠ মন্দির চত্বরে। সকাল থেকে বিশেষ রীতি-প্রথা মেনেই তারা মায়ের পূজার্চনা শুরু হয়েছে। পূর্ব পরিকল্পনা মতোই কৌশিকী অমাবস্যার সকালে রামপুরহাট রেল স্টেশন থেকে তারাপীঠ মন্দির চত্বর পর্যন্ত পুণ্যার্থীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়েছে। পুজোপাঠ-পুষ্পবৃষ্টির পাশাপাশি তারাপীঠের নিরাপত্তাতেও বজ্রআঁটুনি প্রশাসনের। একদিকে ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে মন্দির।
কয়েকদিন আগেই তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে তারাপীঠের হোটেলগুলিতে প্রশাসনের নজরদারি যেমন রয়েছে, তেমনই মন্দির চত্বরে যাতে কেনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে। এবার তারাপাঠি পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা হল ‘ডিজিটাল রুটম্যাপ’। মেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছতে পুণ্যার্থীরা যাতে বিভ্রান্ত না হন, তার জন্য কিউ আর কোড স্ক্যান করেই পথ নির্দেশিকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে প্রায় ৪ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবেন। নজরদারির চালানো হবে ১১টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে। ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে মন্দির চত্বরে। এছাড়াও ফেস রেকাগনিশন ক্যামেরা রাখা হয়েছে। ড্রোন উড়িয়ে পুরো এলাকায় চালানো হচ্ছে বিশেষ নজরদারি। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ২০০ দমকলকর্মী ও অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতিতে ৮টি ফায়ার রোবট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৯ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৫ জন সদস্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দল উদ্ধারের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
কৌশিকী অমাবস্যায় দিনভর তারাপীঠের গর্ভগৃহে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বাইরে থেকে তারা মাকে দর্শন করতে হচ্ছে ভক্তদের। কৌশিকী অমবস্যা উপলক্ষে প্রতিবছরের মতোই মা তারার ভোগেও রয়েছে বিশেষত্ব। পাঁচ রকম ভাজা, পাঁচ রকম মিষ্টি, পোলাও, শোল মাছ পোড়া, পায়েস, খিচুড়ি, বলির পাঁঠার মাংস সহ অন্যান্য নিবেদন। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতি মুহূর্তে সজাগ প্রশাসন।