বাগেশ্বরের অপমানে অ্যাকশনে শুভেন্দু! ‘যারা ছবি পুড়িয়েছে গ্রেপ্তার করুন’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সিপিকে নির্দেশ
প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্গাপুজোয় আমিষ বারণ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বিতর্কের শীর্ষে মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা (Bageshwar Baba)। বাঙালি অস্মিতায় আঘাতের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের ঝড় উঠে গিয়েছে কার্যত। স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি-কুশপুতুল পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এবার বাগেশ্বরের অপমানে অ্যাকশনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) সাফ জানান, “ভবানীপুরের থানার সামনে যারা ছবি পুড়িয়েছে,সবাইকে গ্রেপ্তার করুন।”
বাগেশ্বর বাবার আমিষ-বিতর্কে গোটা রাজ্যজুড়ে সুর চড়িয়েছেন আমিষভোজী বাঙালি-হিন্দুদের একাংশ। এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, “রাজ্যে একজন ধর্মগুরু এসেছিলেন। তাঁর মতো করে তিনি বলেছেন। গ্রহণ করার হলে করবেন, না করার হলে করবেন না। উনি কারও উপর চাপিয়ে দেননি। তা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে শুনলাম। ভবানীপুর থানার সামনে তাঁর ছবি পোড়ানো হয়েছে।” তাঁর কথায়, “সিপিকে নির্দেশ দিয়েছি, যারা এই কাজ করেছেন, সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে।” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে শুভেন্দুর আক্রমণ, “তোষণের রাজনীতি অনেক করেছেন, তাই আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছে আপনাদের অবস্থা। আমাদের ২০৭, উপনির্বাপনের পর সেই সংখ্যা আরও বাড়বে।” রেজিনগরেও জোরদার লড়াইয়ের হুঙ্কার শুভেন্দুর।
দুর্গাপুজোর আগে বঙ্গে পা রেখেই নতুন করে করে আমিষ বিতর্কে উসকে দেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবা। নিজের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাপুজোয় যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা ‘পাখণ্ডী’ বা ভেকধারী বা ভণ্ড। পুজোর সময় আমিষ ত্যাগেরও নিদানও দিয়েছেন তিনি। আর যা ঘিরে পুজোর মুখে দানা বাধে বিতর্ক। যদিও ধর্মগুরুর এই নিদানকে আমল দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্বের একাংশই। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বহিরাগত কোনও সাধুর পরামর্শে বাঙালির সংস্কৃতি বা খাদাভ্যাস বদলে যাবে না। আমিষ ভোজনে শমীকের পথে হেঁটেই বিতর্ক উড়িয়েছেন সুকান্ত মজমুদার থেকে দিলীপ ঘোষরাও। দুর্গাপুজোয় আমিষ ভোজনে কোনও আপত্তি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু না জানালেও মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বাঙালি খাদাভ্যাসে কোনওরকম হস্তক্ষেপ করবে না সরকার। তবে আমিষ নিয়ে সাধারণ মানুষের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিলেও এরাজ্যে এসে কোনও ধর্মগুরুর অপমান যে বরদাস্ত নয়, তা সাফ জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু।