• অভিষেকের বাড়িতে বিরাট অভিযান সিআইডি-এসটিএফের, দুর্নীতি মামলায় অবেশেষে গ্রেপ্তার সুমিত রায়
    প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের (Sumit Roy) রক্ষাকবচ বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের রায়ের পরেই সুমিতের খোঁজে ফের ময়দানে নেমে পড়ল সিআইডি ও এসটিএফ। পালানোর সব পথ বন্ধ করতে ছেয়ে যান আধিকারিকরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি ও সুমিতের রায়ের বাড়ি ঘিরে ফেলে সিআইডি ও এসটিএফ। অভিষেকের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুমিত রায়কে।

    শালবনিতে জমি-দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সুমিত। সেই মামলায় আগাম জামিনের জন্য হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে যান সুমিত। বুধবার মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। বুধবার রাজ্যের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে সওয়াল করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, গত জুন মাসে সুমিতের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে। তাঁর অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ১৫ কোটি জমা হয়েছে। এই টাকার উৎস নিয়ে আদালতে সন্দেহপ্রকাশ করেন তদন্তকারীরা। রাজ্যের হেয় আদালতে সওয়াল করেছিলেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।

    এর আগেই শুনানিতে সুমিতের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছিল। তারপরেই সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের লিখিত রেকর্ড দেখতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। জিজ্ঞাসাবাদ-পর্বের ভিডিয়োর লিখিত রেকর্ড বুধবার আদালতে জমা করে রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “সময় এবং সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সুমিত তদন্তে সহযোগিতা করেননি।” এই মামলায় বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ উঠতেই অভিযুক্তের খোঁজে অভিষেকের বাড়ি ঘিরে ফেলে সিআইডি ও এসটিএফের আধিকারিকরা।

    আগেও অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির তালা ভেঙে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। তবে সুমিতের খোঁজ মেলেনি। বৃহস্পতিবার সকালে ফের কালীঘাটে ‘বসের’ বাড়িতে হানা দেয় সিআইডি। তদন্তাকারীদের কাছে খবর ছিল ওই বাড়িতেই গা ঢাকা দিয়ে আছে অভিষেকের আপ্ত সহায়ক। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর অবশেষে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে পারেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় সুমিত রায়কে। জানা গিয়েছে, সুমিতের উপর নজর রাখতে অভিষেকের বাড়ির আশেপাশে ছদ্মবেশে আনাগোনা করছিল পুলিশ। সুমিত রায়ের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তোলাবাজ ভাইপোর এক নম্বর কালেক্টর সুমিত রায় গ্রেপ্তার।”

    দীর্ঘদিন ধরে কার্যত চোর-পুলিশের খেলা চলেছে। সুমিত রায়ের খোঁজে নোটিস জারি হয়েছিল। তারপর নিজেই আচমকা সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে যান অভিষেকের আপ্ত সহায়ক। লাগাতার ১১ দিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে ‘সুপ্রিম’ রক্ষাকবচের গেরোয় আটকে ছিল গ্রেপ্তারি। তবে এত চেষ্টার পরেও শেষরক্ষা হল না। সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করে ভবানী ভবনে নিয়ে যায় সিআইডি। শুক্রবার মেদিনীপুরে আদালতে পেশ করা হতে পারে তাঁকে। বিরোধীরা অনেকেই মনে করছে, শাগরেদের সূত্র ধরেই ‘বস’ অভিষেকের আরও কীর্তি-কলাপ প্রকাশ্যে আসতে পারে এবার!
  • Link to this news (প্রতিদিন)