ইনস্টাগ্রামে ভয়ানক ফাঁদ! নিউ মার্কেটের হোটেলে ‘বন্দি’ হাওড়ার ছাত্রী, পুলিশি তৎপরতায় রক্ষা
প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোশাল মিডিয়ায় ছাত্রীকে বিদেশে পড়াশোনা ও চাকরির টোপ! ‘বন্ধুত্বে’র ফাঁদে পড়ে ঘর ছাড়ে নাবালিকা। চলে আসে ধর্মতলায়। ওঠে নিউ মার্কেটের হোটেলে। রুমে ‘বন্দি’ করে ফোন হ্যাক করে সাইবার অপরাধীরা। তারপরই পরিবারের কাছে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি। নয়তো ছাত্রীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি। অভিযোগ পেয়েই তদন্ত নামে পুলিশ। নিউ মার্কেট থানা এলাকার একটি হোটেল থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইনস্টাগ্রামে হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের এক নাবালিকাকে টোপ দেয় অপরাধীরা। একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে বিদেশি নিয়ে পড়াশোনা ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আসতে বলা হয় কলকাতায়। ৭ সেপ্টেম্বর নিজের সমস্ত ডকুমেন্ট নিয়ে বাড়ি ছাড়ে কিশোরী। জগৎবল্লভপুরের শংকরহাটি ২ নম্বর এলাকা থেকে চলে আসে ধর্মতলায়। সেখানে সাইবার অপরাধীরা আগে থেকে গাড়ি ভাড়া রেখেছিল। তাতে চেপে চলে ছাত্রী চলে আসে নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে। সেখানে একাই ওঠে সে। এরপরই খেলা শুরু!
কিশোরীর ফোন হ্যাক করে অপরাধীরা। ফোন যায় তার পরিবারের কাছে। ফোনে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। না দিলে মেয়েটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ৭ সেপ্টেম্বরই জগৎবল্লভপুর থানায় নিখোঁজ ডায়রী করে পরিবারের সদস্যরা। মুক্তিপণের ফোন আসতেই জানানো হয় পুলিশকে। এরপরই হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সাইবার সেল, রাজ্য পুলিশের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি-সহ জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারা তদন্তে নামেন। নাবালিকা ফোন নম্বর থেকে মুক্তিপণ চেয়ে আসা নম্বর ট্র্যাক করেন আধিকারিকরা। তাতেই জানা যায় নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে রয়েছে কিশোরী। বুধবার রাতে ওই হোটেলে অভিযান চালায় আধিকারিকরা। রুম থেকে নাবালিকাকে একাই উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে অপরাধীদের কেউ ছিল না।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি আন্তরাজ্য অপরাধী চক্র কিশোরীকে প্রলুব্ধ করেছিল। এই চক্রটি বিহার,উত্তর প্রদেশ অথবা হরিয়ানা থেকে চালানো হয়। এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপন চাওয়া, খুনের হুমকি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে জগৎবল্লভপুর পুলিশ। হাওড়া জেলা গ্রামীণ পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা জানিয়েছেন, “মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। নাবালিকাকে উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করা হয়েছে। মেয়ে উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি পরিবারে।