আর জি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পরের সপ্তাহেই আদালতে জমা পড়বে সিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্ট। তার আগে ‘লাস্ট সিন টুগেদার থিওরি’কে গুরুত্ব দিচ্ছে সিবিআই। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ঘটনার রাতে সহপাঠী চার চিকিৎসকের সঙ্গে নৈশভোজ করেছিলেন নির্যাতিতা। তাঁদের চারজনের ভূমিকা কী ছিল, তথ্য ফের জানার চেষ্টা করছে আর জি কর কাণ্ড নিয়ে তৈরি সিবিআইয়ের ‘সিট’। তাই ওই চার চিকিৎসক ফের সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে। যদিও এই মামলায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। এই মামলায় ওই চারজন চিকিৎসক সাক্ষী ছিলেন।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই চারজন চিকিৎসককে নির্যাতিতার সঙ্গে শেষ দেখা গিয়েছিল। তাই এই ক্ষেত্রে ‘লাস্ট সিন টুগেদার থিওরি’ উঠে আসে। তবে ওই চারজনকে যে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, এমনটাও নয়। ইতিমধ্যে সিবিআইয়ের ‘সিট’ হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাঁদের মধ্যে ওই চারজনের বক্তব্যকে সিবিআই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দু’বছর আগে আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর পুলিশ ওই চারজনকে জেরা করেছিল। এরপর সিবিআই ওই চারজনকে জেরা করে রাতে তাঁরা কে কোথায় ছিলেন, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়। তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে সিবিআই চারজন চিকিৎসকেরই পলিগ্রাফ পরীক্ষা করে। এরপরই সিবিআই তাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণ করে।
ওই চারজন চিকিৎসক সিবিআইকে জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে ওই নির্যাতিতা ও তাঁরা প্রত্যেকেই চেস্ট ওপিডিতে নাইট ডিউটিতে ছিলেন। রাত সওয়া দশটা নাগাদ ওই চার সহকর্মী ও নিজের জন্য খাবার সরবরাহকারী অ্যাপে নির্যাতিতা খাবারের অর্ডার দেন। যে সেমিনার রুম থেকে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেই রুমের ডায়াসে বসেই পাঁচজন অলিম্পিক দেখতে দেখতে ডিনার করেন। সেদিন তথা ৯ আগস্ট রাত ১২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ডিনার পর্বে পাঁচজন একসঙ্গেই ছিলেন। ওই চার চিকিৎসককে নির্যাতিতার সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল।
সিবিআইকে তাঁরা জানান, এরপর নির্যাতিতা ডায়াসে ম্যাট্রেসের উপর ঘুমিয়ে পড়েন। দুই চিকিৎসক স্টাডি রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। একজন ইন্টার্ন রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। চতুর্থজন এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ডিউটি করতে যান। তাঁর সঙ্গে রাতে ফোনে একবার নির্যাতিতার কথাও হয়। নির্যাতিতা ওই চিকিৎসককে পরামর্শও দেন। তাঁদের মধ্যেই একজন ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে নটা নাগাদ সেমিনার রুমে এসে নির্যাতিতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দু’বছর আগে ওই চার চিকিৎসক সিবিআইকে যা বয়ান দিয়েছিলেন, দু’বছর পর তাঁরা একই বক্তব্য জানাচ্ছেন কি না, সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিবিআই।