• সরকারি অনুষ্ঠানে শুধু ২ স্তবক ‘বন্দে মাতরম’, কর্নাটক সরকারের নির্দেশ ঘিরে ফের বিতর্ক
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে কেন্দ্র ও কংগ্রেসের টানাপড়েনের মধ্যেই এ বার নতুন বিতর্ক কর্নাটকে। সেখানকার কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার সরকারি অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে জাতীয় সঙ্গীত নয়, জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর শুধু প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে গানটি কী ভাবে এবং তার কোন অংশ গাওয়া হবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট প্রোটোকলও বেঁধে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

    কর্নাটক সরকারের জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, রাজ্যে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও অনুষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বা বাজানোর ক্ষেত্রে ঐক্য, সম্মান এবং যথাযথ প্রোটোকল বজায় রাখা প্রয়োজন। সেই কারণেই প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ওই নির্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা গাইডলাইনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর সরকারি সংস্করণ এবং বিভিন্ন সরকারি ও জনসমাবেশে তা গাওয়া বা বাজানোর বিষয়ে নির্দেশিকা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে কর্নাটক সরকারের সিদ্ধান্ত সেই কেন্দ্রীয় অবস্থানের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    কর্নাটকের শিবকুমার সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কংগ্রেসের অবস্থানেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ অংশ সরকারি অনুষ্ঠানে গাওয়া নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কংগ্রেসের মতবিরোধ ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।

    গত মাসে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দলের অনুষ্ঠানগুলিতে ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুসারেই ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়া হবে। সেই অবস্থান থেকেই এ বার ডিকে শিবকুমার সরকারও সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

    এর আগে ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্র সরকারি অনুষ্ঠান এবং জনসমাবেশে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছিল। একইসঙ্গে সংসদে এমন একটি বিলও পাশ করা হয়েছিল, যেখানে জাতীয় গান গাওয়া বন্ধ করা বা তাতে বাধা দেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়। ফলে কর্নাটকের নতুন নির্দেশকে কেন্দ্রের অবস্থানের সরাসরি বিরোধিতা হিসেবে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে ‘বন্দে মাতরম’ লিখেছিলেন। ১৮৯৬ সালে কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম গানটি পরিবেশন করেন।

    পরে গানটির কয়েকটি অংশ নিয়ে মুসলিম লিগের আপত্তি তৈরি হয়। তাঁদের অভিযোগ ছিল, গানটির কিছু অংশে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে এবং তা মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করতে পারে। এই বিতর্কের পরে ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে। কংগ্রেসের দাবি, বর্তমান অবস্থান সেই পুরোনো সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেওয়া। কংগ্রেসের এই অবস্থান নিয়ে অবশ্য বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সংঘাত রয়েছে।

    অগস্টে গোয়ায় একটি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ অংশ না গাওয়ায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও বিজেপির সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। জবাবে খাড়গে জানিয়েছিলেন, তিনি মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, সর্দার প্যাটেল এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলকেই অনুসরণ করেছেন।

    এ বার কর্নাটক সরকারের সরকারি অনুষ্ঠানে শুধু দু’টি স্তবক গাওয়ার নির্দেশের পরে ‘বন্দে মাতরম’ ইস্যুতে কেন্দ্র-কংগ্রেস সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)