• ট্রেনের বাঙ্ক থেকে অদলবদল, ব্যাগে ছিল পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন-গুলি, যা ঘটল শেওড়াফুলিতে
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার সকালে বর্ধমান-হাওড়া লোকাল ট্রেনে চেপে চন্দননগর থেকে শ্রীরামপুর যাচ্ছিলেন সিআরপিএফ-এর প্রাক্তন জওয়ান কমল ঘোষ (৪৫)। তাঁর পিঠে ছিল নীল রঙের একটি ব্যাগ। ট্রেনের বাঙ্কে ব্যাগ রেখেছিলেন কমল।

    অন্য দিকে, একই কামরায় ছিলেন বৈঁচীর বাসিন্দা শেখ রাজু। বাঙ্কে তাঁরও একটি নীল রঙের ব্যাগ রাখা ছিল। শেওড়াফুলি স্টেশনে ব্যাগ নিয়ে নেমে যান রাজু। তাঁর হঠাৎ খেয়াল হয়, তিনি যে ব্যাগ নিয়ে নেমেছেন, সেটি তার নয়। দোনামোনা করে ব্যাগটি খুলেও ফেলেন। এর পরেই শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায় রাজুর। তিনি দেখেন, ব্যাগের মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ। কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। কিছুক্ষণ স্টেশনে বসে ভাবেন, তাঁর এই মুহূর্তে কী করা উচিত। এর পরে ফের তিনি বৈঁচী ফিরে যান। বাড়িতে নিজের মাকেও জানান ঘটনাটি।

    এ দিকে, সিআরপিএফ জওয়ান কমল ঘোষও কিছুক্ষণ বাদে বুঝতে পারেন তাঁর ব্যাগ বদল হয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেন শেওড়াফুলি জিআরপি-তে। কমল ঘোষ জিআরপি থানায় জানান, তাঁর ব্যাগে ছিল একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন, ১৪ রাউন্ড তাজা গুলি (অ্যামুনেশন) ও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স। সঙ্গে সঙ্গে জিআরপি টিম ওই ব্যাগের খোঁজ শুরু করে দেয়।

    স্টেশনের সিসিটিভি দেখে জিআরপি বুঝতে পারে ব্যাগটি শেওড়াফুলি স্টেশনে কোনওভাবে ব্যাগ বদল হয়। জিআরপি-র একাধিক থানা ও ফাঁড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে রেল পুলিশের কর্মীরা। ততক্ষণে নীল রঙের ব্যাগ নিয়ে বৈঁচী ফাঁড়িতে হাজির হন রাজু। ব্যাগে থাকা সমস্ত সামগ্রী অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়। বৈধ নথিপত্র যথাযথ ভাবে যাচাই করার পরে সামগ্রী-সহ ব্যাগটি প্রাক্তন জওয়ান কমল ঘোষের হাতে তুলে দেয় শেওড়াফুলি জিআরপি।

  • Link to this news (এই সময়)