ঘর যেন জতুগৃহ! ভোররাতে আচমকা বাড়িতে আগুন লেগে একেবারে মৃত্যুকূপে পরিণত হল তা। ঘুমের মধ্যেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল বৃদ্ধার। আর আগুন থেকে বাঁচতে ঘরের বাইরে বেরতে গিয়ে পুড়ে মারা গেলেন বৃদ্ধ। বৃহস্পতিবার সকালে বেলঘরিয়ার (Belgharia) নিমতা এলাকায় এহেন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হইচই। মৃত বৃদ্ধ দম্পতির আত্মীয়ের কথামতো নিমতা থানা দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি তদন্তে নেমেছে। প্রাথমিক অনুমান, এসির শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
নিমতার ওই মৃত দম্পতি ননীগোপাল দাসের বয়স ৯৬ বছর। স্ত্রী তৃপ্তি দাস ৮৭ বছরের। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিলেন। ২০২১ সালে মেয়ে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিমতার বাড়িতে রেখে ছেলে নাগপুর চলে যান। তিনি সেখানেই থাকতেন। এখানে বাড়ি দম্পতি একা থাকলেও পাশেই থাকতেন বৃদ্ধার ভাইপো। পিসি-পিসেমশাইকে তিনি নিয়মিত দেখভাল করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে ওই ভাইপো দেখেন, পিসির বাড়ি থেকে ধোঁয়া বেরচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছুটে যান সেখানে। কোনওক্রমে বাড়ির মেন গেট খুলতেই বুঝতে পারেন, বাড়িতে আগুন লেগে গিয়েছে। প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করে দমকলে খবর দেওয়া হয়। দমকল কর্মীরা ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। আগুনে ঘরের এসি, টিভি, শোকেস, ড্রেসিং টেবিল-সহ একাধিক আসবাব পুড়ে গিয়েছে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট বা এসির ইনডোর ইউনিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে আগুনের অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকল।
বৃদ্ধার ভাইপো জানান, ‘‘আমার পাশের বাড়িতে থাকতেন পিসি-পিসেমশাই। দোতলার একটা ঘরেই দু’জন থাকতেন। সকালে আমি দেখি, বাড়িটায় আগুন লেগে গিয়েছে। দরজা ভেঙে দু’জনকে উদ্ধার করা হয়। ঘরের খাটেই পিসির দেহ ছিল। পিসেমশাই ঘর থেকে বেরতে গিয়েও পারেননি, তিনি দরজার সামনে পড়ে মারা যান। মনে হয়, এসির শর্ট সার্কিট থেকে এত বড় আগুন লেগেছে। ওঁদের ছেলে নাগপুরে থাকেন, তাঁকে খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি আসছেন।” তদন্তে নেমেছে নিমতা থানার পুলিশ।