‘আমার ঘরে কেন?’, খালি হাতে সাপ ধরে প্রলাপ বৃদ্ধের! পরমুহূর্তেই কিং কোবরার ছোবলে মৃত্যু
প্রতিদিন | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাহাড়ে টানা বৃষ্টি। চারপাশে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। আর সেই সুযোগে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল বিশাল একটি কিং কোবরা। কালিম্পং জেলার নিম্বিং অঞ্চলের সন্ন্যাসীডারা এলাকার একটি বাড়িতে হঠাৎই দেখা মেলে বিষধর সাপটির। বাড়ির মালিক, ৭৪ বছরের আনন্দ বরাইলি অবশ্য ভয় পাননি। উলটে সাহস চেপে বসেছিল তাঁর মনে। আর সেই সাহস দেখিয়েই কার্যত কিং কোবরার হাতে প্রাণ খোয়ালেন আনন্দবাবু।
কোনও প্রশিক্ষণ ছিল না। তা সত্ত্বেও তিনি খালি হাতে ধরে ফেললেন কিং কোবরাটিকে। তারপর সেটিকে নিয়ে গ্রামের মূল রাস্তায় গিয়ে বকাবকি করেন আনন্দবাবু। সাপের উদ্দেশে বলতে থাকেন – “আমার ঘরে ঢুকেছিস কেন?” চারপাশে তখন মানুষের ভিড়। কারও চোখে আতঙ্ক, কেউ দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছেন সেই দৃশ্য। কিন্তু আনন্দের মনে যেন কোনও ভয় নেই। কখনও সাপটিকে হাতে তুলে ধরছেন, কখনও আবার গলায় জড়িয়ে নিচ্ছেন। এভাবে চলতে চলতেই মুহূর্তের অসাবধানতায় সাপটি তাঁর হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। ফের তাকে ধরতে যান আনন্দবাবুর। কিন্তু এবার ব্যর্থ হন। কিং কোবরা সটান তাঁর পায়ে ছোবল মারে। সমবেত জনতা শিউরে উঠে দূরে সরে যান।
কিন্তু কিং কোবরার ছোবল খাওয়ার পরও থামেননি বছর চুয়াত্তরের আনন্দ বরাইলি। তিনি কিং কোবরাটিকে ফের ধরে রাস্তার মাঝখানে বসে পড়েন। কিন্তু ধীরে ধীরে শরীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে বিষের প্রভাব। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। একসময় নিথর হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, কিং কোবরার বিষে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তিনি হয়ত ভাবতেও পারেননি, প্রশিক্ষণ ছাড়া স্রেফ সাহস দেখিয়ে সাপের সঙ্গে খেলাই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়াবে।
এই ঘটনাটি ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বন্যপ্রাণী যতই শান্ত মনে হোক, তার সঙ্গে খেলাচ্ছলে সাহস দেখানো কখনও নিরাপদ নয়। বিশেষ করে কিং কোবরার মতো বিষধর সাপ বাড়িতে বা লোকালয়ে ঢুকে পড়লে নিজে ধরতে যাওয়ার সাহস কোনওভাবেই দেখানো যাবে না। দ্রুত বনদপ্তর অথবা প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়াই হতে পারে জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে নিরাপদ পথ।