সম্পত্তির লোভে নিজের জন্মদাতা বাবাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল ছেলে ও বউমার বিরুদ্ধে। হাত-পা বেঁধে ওই বৃদ্ধকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আঘাত করা হয় তাঁকে। গুরুতর জখম বাবাকে বেঁধে রেখেই স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে ছোটে গুণধর ছেলে। দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে মৃত্যু হয় বৃদ্ধের। ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুর (Baruipur) থানার অন্তর্গত শিখরবালি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধনবেড়িয়া গ্রামে। এই ঘটনায় পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছেলে পলাতক।
মৃত বৃদ্ধের নাম জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নস্কর (৭২)। অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে মঙ্গলবার বাড়িতেই ছেলে রামপ্রসাদ নস্কর ও পুত্রবধূ শিখা নস্কর মিলে বৃদ্ধের হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। শাবল দিয়ে শরীরের একাধিক জায়গায় খুঁচিয়ে আঘাত করা হয় তাঁর। বৃদ্ধ চিৎকার করলেও তাঁকে ঘরের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। জানা যায়, এই ঘটনার সময় কোনওভাবে শিখা নস্করের চোখে আঘাত লেগে যায়। এই পরিস্থিতিতে নিজের বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে চলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি। তখনও বৃদ্ধের হাত-পা বাঁধা অবস্থাতেই ছিল। বিকেলে ছেলে ও বউমা বাড়িতে ফিরে আসেন। ততক্ষণে মৃত্যু হয় বৃদ্ধের।
ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ছেলে-বউমা। তবে আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা বারুইপুর থানার পুলিশকে খবর দেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পুত্রবধূ শিখা নস্করকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছেলে রামপ্রসাদ পলাতক রয়েছেন। ধৃতকে মহিলাকে বুধবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, পলাতক ছেলের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের আত্মীয়রা।