মণিপুরে ফের আক্রান্ত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী। এ বার হামলা চালানো হয়েছে CRPF-র কনভয়ে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম ইম্ফলে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে টহল দেওয়ার সময়ে সিআরপিএফ-এর কনভয়ে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় কেউ হতাহত না হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ।
অন্যদিকে, কাংপোকপি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী। সেই সঙ্গেই কুকি জঙ্গিদের একটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮ জনকে। ধৃতরা সকলেই সন্দেহভাজন কুকি লিবারেশন আর্মির সদস্য বলেও দাবি পুলিশের।
গত কয়েক দিনে নতুন করে অশান্ত হয়েছে মণিপুর। হামলা চালানো হয়েছে কাংপোকপি এলাকাতেও। এই এলাকায় আক্রান্ত হন এক সিআরপিএফ জওয়ান-ও। গত মাসেই কাংপোকপি লাগোয়া সেনাপতি জেলায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় একাধিক বাড়িতে। ওই এলাকাতেই গুলিবিদ্ধ হন ওই CRPF জওয়ান। জুন মাসেও জিরিবাম এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন এক সিআরপিএফ জওয়ান। এই ঘটনায় আহত হন দুই পুলিশকর্মীও। আরও কয়েকটি জায়গায় হামলা চালানো হয় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে। সেই সঙ্গেই মণিপুরের দুই বিধায়কের বাড়িতেও বোমা নিয়ে হামলা হয়।
আর, এই সবের মধ্যেই ফের হামলা চালানো হয়েছে CRPF-কে লক্ষ্য করে। মনিপুরের পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি গাড়িতে করে দুষ্কৃতীরা এসে সেন্ট্রাল রিজ়ার্ভ পুলিশ ফোর্সের জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মণিপুরের ইম্ফল পশ্চিম জেলায় (Imphal West district) জাতীয় সড়ক-২ ধরে টহল দিচ্ছিলেন জওয়ানরা। সেখানকার খোংহামপাট ও ফেইডিংগার মধ্যবর্তী এলাকায় পায়ে হেঁটে টহল দিচ্ছিলেন সিআরপিএফ-এর ১৫২ নম্বর ব্যাটালিয়নের ওই জওয়ানরা। সেই সময়েই গুলি চালানো হয়। যদিও ওই হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
গুলি চালানোর পরেই উত্তর দিকে, সেকামি গ্রামের দিকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। তল্লাশি চালানো হলেও তাদের ধরা যায়নি। তবে ওই এলাকা থেকে AK-47-র আটটি খালি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে।
আর এক দিকে, কাংপোকপি জেলার সাইকুল থানার গাম্পুম গ্রামে অভিযান চালিয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। ওই এলাকায় সন্দেহভাজন কুকি লিবারেশন আর্মি (KLA) সদস্যদের একটি ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আটজনকে ধরার পাশাপাশি এবং সাতটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।