• পায়েস–ইলিশ ভাপায় অতিথিদের স্বাগত জানাবে ব্রিকস
    এই সময় | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি

    লুটিয়েন্স দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত লীলা প্যালেস হোটেল থেকে শান্তি পথ—মাত্র দেড় কিলোমিটার পথ গাড়িতে পেরোতে থামতে হলো পাঁচ বার। সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা প্রত্যেক বার খতিয়ে দেখলেন পরিচয়পত্র। কাশ্মীরের থেকেও কড়া নিরাপত্তায় মোড়া এখন দিল্লি, কারণ ব্রিকস সম্মেলেন! আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের আয়োজন ঘিরে রাজধানীকে মুড়ে ফেলা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে৷ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–সহ ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মিশর— ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্রগুলির প্রধানরা আজ থেকেই আসতে শুরু করবেন দিল্লিতে, তাঁদের নিরাপত্তায় যেন কোনও ফাঁক না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এত আয়োজন। দিল্লির আকাশে রাতদিন টহল দিচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান৷ সঙ্গে থাকছে নজরদারি ড্রোন৷ দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৩০,০০০ সশস্ত্র জওয়ান, এলিট কম্যান্ডো, শার্প শুটার৷ সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে বম্ব ডিসপোজ়াল স্কোয়াড৷

    লীলা প্যালেস, তাজমহল এবং ললিত— মূলত এই তিনটি সাততারা হোটেলে থাকবেন রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট অতিথিরা৷ এই তিনটি হোটেলেই আগামী রবিবার পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ যেখানে ‘ব্রিকস’ সম্মেলন আয়োজিত হবে সেই ‘ভারত মণ্ডপম’-এর আশেপাশের এলাকা–সহ দিল্লির ৩৫টি রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ৷ আজ শুক্রবার ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে বন্ধ রাখা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট–সহ সব সরকারি অফিসও৷ ছুটি দেওয়া হয়েছে দিল্লির সব স্কুলগুলিতে৷ ইতিমধ্যেই দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে পজ়িশন নিয়েছেন চিন এবং রাশিয়ার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। নিজের নিজের দেশের প্রিমিয়ারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তাঁরা দিল্লিতে উড়ে এসেছেন দু’দিন আগেই৷

    ‘ভারত মণ্ডপম’কে ঘিরে পাঁচ কিলোমিটার এলাকাকে মূল নিরাপত্তা বলয় হিসেবে ধরা হয়েছে। এই বলয়ের বাইরের অংশে দিল্লি পুলিশ ও প্যারা মিলিটারি ফোর্সের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। অতি সংবেদনশীল এলাকাগুলোয় থাকবে জাতীয় নিরাপত্তা গার্ড (এনএসজি) কম্যান্ডো, গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)–এর বিশেষ টিম। সম্মেলনস্থল ও আশপাশের এলাকায় বায়োমেট্রিক নজরদারি, সিসিটিভি এবং আধুনিক অ্যাক্সেস কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বম্ব ডিসপোজ়াল স্কোয়াড (বিডিডিএস) ও অ্যান্টি-সাবোটাজ টিমও মহড়া শেষ করেছে। আকাশপথে অনুপ্রবেশ বা হামলা ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার ও আকাশ নজরদারি। বিদেশি অতিথিরা যে সব অভিজাত হোটেলে থাকবেন, সেগুলোও ২৪ ঘণ্টা গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে হোটেল এবং সেখান থেকে ভারত মণ্ডপম পর্যন্ত ভিভিআইপি রুটগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর হাতে। সব মিলিয়ে দিল্লি এখন এক নিশ্ছিদ্র দুর্গ৷

    বিদেশ অভ্যাগতদের রসনা তৃপ্তির জন্য তৈরি লুটিয়েন্স দিল্লির সাততারা হোটেলগুলি৷ সূত্রের খবর, বিশেষ আইটেমের মধ্যে থাকছে কাজু কিসমিস–সহ গোবিন্দ ভোগ চালের পায়েস, বর্ধমান স্টাইলের মিহিদানা, রসগোল্লা, মাখা সন্দেশ, মোচার ঘন্ট, তাজা নিমকি এবং ইলিশ ভাপা–ও৷ সঙ্গে থাকছে কাশ্মীরী পোলাও, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, লখনৌয়ের গলৌটি কাবাব, ডেকানি তড়কা, দক্ষিণী স্টাইল ফ্রায়েড ইডলি, মিলেট খিচুড়ির মতো নানা পদ৷ ‘দ্য ললিত হোটেল’–এর জেনারেল ম্যানেজার বিশাল শর্মার কথায়, ‘এর আগেও আমরা বিদেশি অতিথি এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের রসনা তৃপ্ত করতে পেরেছি৷ তাদের প্রভূত প্রশংসাও পেয়েছি৷ এ বারও আমরা নিশ্চিত— আমাদের মেনুর বৈচিত্র্য, স্বাদ বিদেশি অতিথিদের মন ছুঁতে পারবে৷’

  • Link to this news (এই সময়)