এই সময়, মেদিনীপুর: বর্ষার শুরু থেকেই পশ্চিম মেদিনীপুরে সর্পদংশনের ঘটনা বাড়ছে। চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে জেলায় সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৬৬০টি। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। সময়মতো আক্রান্তদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানো সম্ভব হয়েছে বলে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান, ২০২৫–এ জেলায় সর্পদংশনের ঘটনা ঘটেছিল ৫ হাজার ৮৩৮টি। মৃত্যু হয়েছিল ৪১ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে ১৩৭৯ জনকে হেমোটক্সিক অ্যান্টিভেনাম, ৬৭৮ জনকে নিউরোটক্সিক অ্যান্টিভেনাম এবং ৭৫ জনকে হেমোটক্সিক ও নিউরোটক্সিক—উভয় ধরনের অ্যান্টিভেনাম দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬–এ জুলাই পর্যন্ত সর্পদংশনের ঘটনায় ৯৬৭ জনকে হেমোটক্সিক, ৩১১ জনকে নিউরোটক্সিক এবং ২০ জনকে হেমোটক্সিক ও নিউরোটক্সিক উভয় ধরনের অ্যান্টিভেনাম দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, বর্ষায় সাপের কামড়ে ঘটনা বাড়ছে। চলতি বছরে মে মাসে ৭০১, জুনে ৯০৭ এবং জুলাইয়ে ১০২৮টি সর্পদংশনের ঘটনা ঘটেছে। জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, ‘মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাপে কামড়ানো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সময়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় কমছে মৃত্যু।’ তাঁর দাবি, জেলার প্রতিটি শয্যাযুক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনাম মজুত রয়েছে।
সর্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিল-মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে। এই সময় সাপের প্রজননকাল। এছাড়াও বর্ষায় সাপের গর্ত জলে ভরে যায়। নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে তারা লোকালয়ে, বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তাই সাপে কামড়ালে সময় নষ্ট না করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া উচিত।