এই সময়, চন্দ্রকোণা: বাবা যাতে বার্ধক্য ভাতা পান, তাই তৃণমূলের আমলে দুয়ারে সরকার শিবিরে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন ছেলে। দিয়েছিলেন বাবার সমস্ত নথিপত্রও। অভিযোগ, তারপর কেটে গিয়েছে ছয় বছর। কিন্তু বার্ধক্য ভাতা পাননি বাবা। রাজ্যে পালাবদলের পরে হতাশা ঘুচল ছেলে ও বাবার। দু’দিন আগেই বার্ধক্য ভাতা অনুমোদন হয়ে অ্যাকাউন্টে টাকাও ঢুকেছে বৃদ্ধের। ভাতার টাকা পাওয়ার আনন্দে বৃদ্ধের ছেলে পুরসভার গেটে ব্যানার টাঙিয়ে জনপ্রতিনিধি ও কাউন্সিলারকে ধন্যবাদ জানালেন। চন্দ্রকোণার রামজীবনপুর পুরসভার ঘটনা।
রামজীবনপুর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড নতুনহাট এলাকার বাসিন্দা দ্বিজদাস হোতা। পরিবার বলতে স্ত্রী ও এক ছেলে। ছেলে তাপস রামজীবনপুরে একটি সমবায় সমিতিতে পিওনের কাজ করেন। বৃদ্ধ দ্বিজদাসের ছোট্ট একটি চপের দোকান রয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০২০ সালে দ্বিজদাসের জন্য বার্ধক্য ভাতার আবেদন করা হয়। অভিযোগ, আবেদন জমা করার পরেও বার্ধক্য ভাতা চালু হয়নি। মাঝেমধ্যে পুরসভায় গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন। কেউ কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রথম জনকল্যাণ শিবির চালু করে নতুন সরকার। সেখানেই আবেদন জানিয়েছিলেন ছেলে। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার দ্বিজদাসের আবেদন অনুমোদন হয়ে তাঁর অ্যাকাউন্টে ভাতার দেড় হাজার টাকা ঢোকে। খুশিতে তাপস বুধবার পুরসভার গেটে ব্যানার লাগিয়েছেন। ব্যানারে তিনি লিখেছেন, ‘৬৮ বছরের বাবার বার্ধক্য ভাতা করে দেওয়ায় সকল জনপ্রতিনিধি ও কাউন্সিলারকে জানাই শতকোটি প্রণাম ও অসংখ্য ধন্যবাদ।’ ব্যানারের পাশাপাশি ওইদিন পুরসভায় গিয়ে সমস্ত কর্মীদের মিষ্টি থাওয়ান তাপস। তিনি বলেন, ‘বাবা যোগ্য হয়েও সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এখন টাকা মেলায় আমরা খুশি। যাঁরা যোগ্য তাঁরা যেন সরকারি সুবিধা পায় এই কামনাই করি।’ বৃদ্ধ দ্বিজদাস বলেন, ‘ছেলের সামান্য আয়। মাসে দেড় হাজার টাকা কম নয়। আমার বার্ধক্য ভাতা না হওয়া নিয়ে ছেলের মনে ক্ষোভ ছিল। সেই সব জায়গায় দৌড়েছে। নতুন সরকার আসায় আমি বার্ধক্য ভাতা পেলাম।’
রামজীবনপুরের বিজেপি নেতা নন্দ নিয়োগী বলেন, ‘তাপস দলের একজন সক্রিয় কর্মী। তাই এতদিন তৃণমূল ওঁর বাবাকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধার থেকে আটকে রেখেছিল। সরকার পরিবর্তন হয়েছে আর যোগ্যরা সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হবে না।’ রামজীবনপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কল্যাণ তিওয়ারি বলেন, ‘আমাদের কাছে যা আবেদন জমা পড়ে আমরা সেগুলি পাঠিয়ে দিই। এটা ঠিক আমাদের সরকারের আমলে বার্ধক্য ভাতার অনেক আবেদন অ্যাপ্রুভ না হয়ে পড়েছিল। নতুন সরকার এসে সেগুলি অনুমোদন দিয়ে টাকা ছেড়েছে।’