• পুষ্টির বার্তা ছড়াতে ফুড স্টল, ডিজিটাল রেসিপি বুক
    এই সময় | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, তমলুক: সবসময়ে যে দামি খাবারেই পুষ্টি থাকে তা নয়, অল্প খরচেও তৈরি করা যায় নানা রকমের পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার— সেই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই বুধবার নিমতৌড়ি জেলা প্রশাসনিক ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে রাখা ছিল নানা রকমের ফুড স্টল। রাষ্ট্রীয় পোষণ মাস উপলক্ষে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন এর আয়োজন করে। সেখানে অল্প খরচে তৈরি করা যায় এমন নানা পুষ্টিকর খাবার প্রদর্শনের পাশাপাশি সেই খাবার তৈরির প্রণালী নিয়ে একটি ডিজিটাল রেসিপি বুক প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁশকুড়া, তমলুক, এগরা, কাঁথি এবং রামনগর–সহ মোট আটটি স্টলে বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রদর্শন করা হয়। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকা, সুপারভাইজার এবং সিডিপিও-রা এই উদ্যোগে অংশ নেন। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা স্টলগুলি ঘুরে খাবারগুলি পর্যালোচনা করেন। প্রতিযোগিতামূলক ভাবে সেরা তিনটি স্টলকে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হিসেবে বেছে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের উৎসাহিত করতে পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। ওই দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) তানিয়া পারভিন, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) সমরজিৎ চক্রবর্তী ও অন্য আধিকারিকেরা। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা জানান, প্রস্তাবিত রেসিপি বুকটি আগামী দিনে ডিজিটাল আকারে প্রকাশ করা হবে। পোষণ মাসের কর্মসূচির সমাপ্তির দিনে, ৮ অক্টোবর, সেই ডিজিটাল বই উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে বইটি প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই কম খরচে পুষ্টিকর খাবার তৈরির পদ্ধতি জানতে পারেন।

    জেলা প্রশাসনের ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম অফিসার (আইসিডিএস) বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, ‘অল্প খরচে তৈরি খাবারের মধ্যেও শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ভিটামিন এবং মিনারেলসের মতো পুষ্টি উপাদান রাখা সম্ভব। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীদের মাধ্যমে এই বার্তা উপভোক্তাদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’ জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরে আইসিডিএস পরিষেবার আওতায় মা ও শিশু মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার উপভোক্তা রয়েছেন। জেলায় আইসিডিএস-এর মোট ৬,৩৪৫টি প্রকল্প কেন্দ্র রয়েছে। পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কম খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরির অভ্যাস গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

  • Link to this news (এই সময়)