• নিজের হাতে তৈরি করেছিলেন খাবার, প্রিয় ঋতুকে না খাইয়ে 'ছুটি' অর্জুনের
    এই সময় | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, গোরুমারা: প্রিয় কুনকি হাতির জন্য নিজের হাতে খাবার তৈরি করে রেখেছিলেন মাহুত অর্জুন ওরাওঁ। কিন্তু খাওয়ানো আর হলো না। তার আগেই বজ্রপাতে মৃত্যু হয় ওই মাহুতের। বুধবার ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ির গোরুমারায়।

    আর পাঁচটা দিনের মতোই প্রিয় কুনকি হাতি ঋতুর জন্য পিলখানায় নিজের হাতে দানা বেঁধে (হাতির খাবার) নদীর পথে পা বাড়ান মাহুত অর্জুন। নদীর পাড়েই ছিল বছর ছয়ের ঋতু। তাকে স্নান করিয়ে পিলখানায় নিয়ে এসে খাবার খাওয়ানোই তার রুটিন। সে দিন রুটিনে ব্যাঘাত ঘটায় মুষলধারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। অগত্যা উপায় না-দেখে গোরুমারা বনবাংলোর কাছে একটি নজরমিনারে আশ্রয় নেন তিনি। কিন্তু সেখানেই টিনের চাল এবং কাঠের পাটাতন ভেদ করে আচমকা বাজ পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে শরীরের একাংশ পুড়ে যায় বছর সাঁইত্রিশের অর্জুনের।

    কাছাকাছি থাকা বনকর্মীরা দেখতে পেয়ে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে চালসার মঙ্গলবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা ওই মাহুতকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোরুমারা-সহ বন দপ্তরের সমস্ত বিভাগে শোকের ছায়া নেমে আসে। গোরুমারা জঙ্গল সংলগ্ন মূর্তি বনবস্তিতে থাকতেন অর্জুন। আট বছর ধরে গোরুমারায় কাজ করছিলেন। সংসারে স্ত্রী এবং দুই ছেলেমেয়ে রয়েছেন। বৃদ্ধ বাবা অসুস্থ। ফলে তাঁর রোজগারেই সংসারটা অনেকটা নির্ভর করত। শুরুতে কুনকি হাতির পাতাওয়ালা হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন অর্জুন।

    পরে মাহুতের দায়িত্ব পান। দীর্ঘদিন ধরে রামসাই মেদলা ক্যাম্পের কুনকি হাতি এবং জঙ্গলের দেখভাল করেছেন তিনি। গতবছর অক্টোবরে হড়পা বানে বুনোদের বাঁচাতে অর্জুনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সম্প্রতি গোরুমারার ক্ষুদে সদস্য ঋতুর দেখাশোনার দায়িত্ব পান তিনি। নিয়ম করে স্নান করানো, চাল, ডাল, গুড়ের দানা বেঁধে খাওয়ানো থেকে শুরু করে খেয়াল রাখা- সমস্তটাই একা হাতে সামলাতেন ওই মাহুত।

    গোরুমারার অভিজ্ঞ মাহুত দীনবন্ধু বর্মনের কথায়, 'মাহুতেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই জঙ্গল এবং বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় অবতীর্ণ হন। তাঁদের প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও মুখোমুখি হতে হয়। অর্জুনের এই মৃত্যু মর্মান্তিক।' মাহুতদের একাংশ জানান, কয়েক দিন পরেই বিশ্বকর্মা পুজোয় হাতিদের নিয়ে সামিল হওয়ার কথা রয়েছে সবার। এরই মধ্যে অর্জুনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁরা শোকস্তব্ধ। গোরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও রাজীব দে বলেন, 'সমস্ত ঘটনার রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই ওই মাহুতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)