সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়
ফ্রি, ফ্রি, ফ্রি।
না, কোনও বিজ্ঞাপনী চমক নয়। নয় কোনও পণ্যের টিজ়ারও। দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের হাজারখানেক প্রবীণ নাগরিককে একেবারে নিখরচায় বেড়াতে নিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার! গুজরাটে সোমনাথ মন্দির দর্শনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাঁদের। নবান্ন সূত্রের খবর, আজ, শুক্রবার রাত পোহালেই শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর কলকাতা স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেনে রওনা দেবেন ওই তীর্থযাত্রীরা। রাজ্যের তথ্য–সংস্কৃতি ও পর্যটন দপ্তরের সৌজন্যে এই সফর।
সোমনাথ দর্শনের যাবতীয় আয়োজন হয়েছে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। জেলাশাসক ও কলকাতা পুরসভার কমিশনারের মাধ্যমে আবেদন ও নামের তালিকা তৈরির কাজ হয়েছে। সেই মতো তীর্থযাত্রীরা কী ভাবে কলকাতা স্টেশনে পৌঁছবেন, সঙ্গে কী নেবেন, সঙ্গী হিসেবে অতিরিক্ত কাউকে নেবেন কি না—সে–সব ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হয়েছে জেলাশাসকের দপ্তরে। সরকার জানিয়েছে, চলাফেরায় সহায়তার প্রয়োজন নেই, এমন ব্যক্তিদেরই বেছে নেওয়া হয়েছে। কেউ সঙ্গী হিসেবে অতিরিক্ত কাউকে নিতে চাইলে সেই খরচ বহন করতে হবে যাত্রীকেই। সোমনাথে থাকা-খাওয়া ও সেখানকার যাতায়াত খরচ বহন করবে গুজরাট সরকার ও কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক।
কলকাতা থেকে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের তীরে সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের ভেরাভালের কাছে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির। ট্রেনে গিয়ে নামতে হবে ভেরাভাল জংশন স্টেশনে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার যাত্রা। স্টেশন থেকে গুজরাট সরকারের বিশেষ বাসে তীর্থযাত্রীদের সোমনাথ মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হবে।
এই মন্দিরের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ছ’–ছ’বার ধ্বংস ও লুট হয়েছে এই দেবালয়। ফের নতুন করে গড়ে উঠেছে। স্বাধীনতার পরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত হয়। ১৯৫০-এর ১১ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ মন্দিরের উদ্বোধন করেন। তবে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার কোনও ধর্মীয় কর্মসূচিতে যুক্ত থাকতে পারে না বলেই মত ছিল প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর। তিনি উদ্বোধনেও যাননি।