এই সময়, মেদিনীপুর: বিদ্যুতের খরচ কমাতে বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বহু পরিবার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে জেলায় 'প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর' প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে। জেলা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে। বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিদ্যুতের বিলের বোঝা কমানোই এখন এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ।
প্রশাসনের তরফে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পটি নিয়ে প্রচারও চালানো হচ্ছে। জানানো হয়েছে, বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে মাসিক বিদ্যুৎ খরচে সাশ্রয় হতে পারে। প্রকল্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মাসে ১০০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবার ১ থেকে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসাতে পারেন। এর আনুমানিক খরচ ৭০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। এই ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি পাওয়া যাবে প্রায় ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ২০০ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারের জন্য ২ থেকে ৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার প্যানেল প্রয়োজন হতে পারে। খরচ হতে পারে প্রায় দু'লক্ষ টাকা এবং সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
অন্য দিকে, মাসে ৩০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারগুলির জন্য তিন কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার সৌর প্যানেলের ব্যবস্থা রয়েছে। এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রকল্পের সুবিধা পেতে প্রথমে 'পিএম সূর্য ঘর' পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এরপর আবেদন যাচাই করবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তর। প্যানেল বসানোর পরে মিটার স্থাপন এবং নেট মিটারিংয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমোদন পাওয়ার পরে সুবিধাভোগীরা অনলাইনে ভর্তুকির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এ দিকে, বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ এবং বকেয়া বিল আদায় নিয়েও প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 'হুকিং' বা বেআইনি ভাবে বিদ্যুৎ নেওয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পাশাপাশি বকেয়া বিল আদায়েও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, অন্য দিকে বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন- দুই দিক থেকে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে ছাদে সোলার প্যানেল।
জেলা বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। মেদিনীপুরের বাসিন্দা চন্দনা মাইতি ও সুদীপ্ত বাগের কথায়, 'সৌরবিদ্যুতের সুবিধা পাওয়ার পরে বিদ্যুতের বিলের চাপ অনেকটাই কমেছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।'