• ডেঙ্গি আক্রান্তের ২৯ শতাংশই স্কুলের পড়ুয়া, উপসর্গ চেনায় জোর বিশেষজ্ঞদের
    এই সময় | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • শ্যামগোপাল রায়

    খামখেয়ালি আবহাওয়ায় রাজ্যে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি। সরকারি সূত্রের খবর, এ বার ডেঙ্গি আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশই স্কুলপড়ুয়া। বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, শিশু ও কিশোর–কিশোরীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় এই রোগ দ্রুত জটিল রূপ নিতে পারে। ছোটদের মধ্যে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবং সময়মতো বিপদ চিনে হাসপাতালে ভর্তি করার বিষয়ে সব পুরসভাকে কড়া গাইডলাইন পাঠিয়েছে পুর দপ্তর। স্কুলস্তর থেকে শুরু করে শহরজুড়ে জোরদার সচেতনতা প্রচার চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি সূত্রের বক্তব্য, গত বছর রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৫১ শতাংশের বয়সই ছিল ১৬ বছর বা তার নীচে। ফলে এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট চিন্তায় রাখছে সরকারকে। পুর দপ্তর সূত্রে খবর, ছোটদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গির প্রভাবে রক্তনালি থেকে প্লাজ়মা ক্ষরণ, ফুসফুসে জল জমা এবং দ্রুত জলশূন্যতার মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। রক্তচাপ আচমকা কমে যাওয়া বা প্লেটলেট দ্রুত কমে যাওয়ার জেরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে চোখের পলকে। তাই এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি না নিয়ে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ও ডেঙ্গির ফারাক বুঝতে অভিভাবকদের বিশেষ কিছু লক্ষণের উপরে নজর রাখতে বলা হয়েছে (গ্রাফিক্স দ্রষ্টব্য)।

    পুর দপ্তর জানিয়েছে, টানা তিন দিনের বেশি জ্বর না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ‘এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট’ করাতে হবে। অভিভাবকেরা যেন নিজেদের মর্জিমাফিক বারবার প্যারাসিটামল বা কোনও রকম অ্যান্টিবায়োটিক শিশুকে না খাওয়ান, সে ব্যাপারেও জোর দেওয়া হয়েছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ পায়েল চৌধুরীর কথায়, ‘ছোটদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় অতিরিক্ত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে ঠিকমতো প্রচার হলে ছোটরা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলেও পরিস্থিতি জটিল হওয়া আটকানো যাবে।’

    নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বাড়ি ও তার আশপাশ সবসময়ে পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে কোথাও এক ফোঁটা জল জমতে না পারে। ডেঙ্গির মশার কামড় থেকে বাঁচাতে দিন ও রাতে মশারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, স্কুল বা বাইরে যাওয়ার সময়ে ছোটদের অবশ্যই সম্পূর্ণ গা-ঢাকা পোশাক এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে। পুরসভাগুলিকে এই গাইডলাইন শহরের প্রতিটি এলাকায় প্রচারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)