আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবি। টালমাটাল দশা দলেরও। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর প্রথমবার কলকাতার বাইরে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মমতা ব্যানার্জির।
হুগলির শ্রীরামপুরে মমতা ব্যানার্জিকে শর্তসাপেক্ষ জমায়েতের অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু শুক্রবার মমতার জমায়েতের অনুমতির মামলা ফের নয়া মোড় নিল।
আদালতের অনুমতিকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেল মাহেশ জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। কলকাতার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বিঠলরাও ঘুগের বেঞ্চে আবেদন করেছেন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল।
তিনি জানিয়েছেন, ‘মাহেশ জগন্নাথ মাঠ ব্যাক্তি মালিকানার। মাঠ কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দিলে পুলিশ একক বেঞ্চের নির্দেশ কীভাবে কার্যকর করবে?’ সে কারণেই একক বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জরুরি ভিত্তিতে ডিভিশন বেঞ্চ যাতে মামলার অনুমতি দেয় সে কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, এর আগেই ১১ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরে একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিল হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস।
কিন্তু এই মিছিল ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি জেলা প্রশাসন। মিছিলের অনুমতি না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল। আদালত শর্তসাপেক্ষ জমায়েতের অনুমতি দিয়েছে। কী কী শর্ত মেনে জমায়েত করা যাবে? সূত্রের খবর, এক, রাস্তায় যানজট যাতে না হয় না দেখতে হবে।
দুই, দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত জমায়েতের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিন, দুই হাজারের মধ্যে কর্মী, সমর্কথকদের নিয়ে জমায়েত করতে হবে। চার, উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে পারবেন না।
পাঁচ, আজ, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ভলান্টিয়ারদের তালিকা দিতে হবে আয়োজকদের, অর্থাৎ কালীঘাট তৃণমূলকে। মমতা ব্যানার্জি, কল্যাণ ব্যানার্জি, অসিত মজুমদার, থাকবেন এই জমায়েতে।
সঙ্গে থাকবেন জেলার কর্মী সমর্থকরা। তবে কালীঘাট তৃণমূল বারবার প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছে। মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করবে কালীঘাট তৃণমূল। মিছিল করে সভার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূলের তরফে।
কিন্তু আদালত জানিয়েছে, মিছিল নয়, মাহেশ জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সমাবেশ করতে পারে। তবে শর্তগুলি মানতে হবে। কিন্তু, ফের ডিভিশন বেঞ্চে চ্যালেঞ্জ করায় এই ঘটনায় নয়া মোড় দেখা গেল।