• মোদির রাজনৈতিক 'রজত জয়ন্তী' নিয়ে বড় পরিকল্পনা
    আজকাল | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২৫ বছরের রাজনৈতিক কর্মকাল পূর্তি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গেও একাধিক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ধাপে ধাপে এই কর্মসূচিগুলি চলবে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, মন্ত্রী, বিধায়ক এবং জেলাশাসকদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক হয়।

    রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা কর্মসূচির জন্য মোট ১২টি প্রধান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আশীর্বাদের দিয়া’, ‘বাচ্চো কে স্বপ্ন কা ভারত’, ‘নমো সেবা গাথা’, ‘অঙ্গন কা উৎসব’, ‘কাহানি বদলাও কি’, ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’, ‘সেবা যাত্রা’, ‘সেবা মেরা যোগদান’, ‘সেবা সেতু অভিযান’, ‘রঙ্গোলি রাষ্ট্র’, ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ এবং ‘জনসেবক মহাকুম্ভ’।

    ১৭ সেপ্টেম্বর ‘আশীর্বাদের দিয়া’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই পর্বের সূচনা হবে। সূর্যাস্তের পর রাজ্যজুড়ে প্রদীপ প্রজ্বলনের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত এক কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কলকাতায় গঙ্গার তীরবর্তী এলাকায় মূল অনুষ্ঠান হবে। পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া, নবান্ন, রাইটার্স বিল্ডিং এবং কালীঘাট মন্দির-সহ বিভিন্ন সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী স্থানে প্রদীপ দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    স্কুল পড়ুয়াদের যুক্ত করতে ‘বাচ্চো কে স্বপ্ন কা ভারত’ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। ৮০ হাজারের বেশি স্কুলকে এর আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে। ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারতকে সামনে রেখে আঁকা, কুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, বিতর্ক ও লেখালেখির মতো বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়েও পৃথক কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, শৌচালয়, জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, আয়ুষ্মান ভারত এবং পিএম কিষান সম্মান নিধির মতো প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার পর তাঁদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা তুলে ধরা হবে ‘কাহানি বদলাও কি’ কর্মসূচিতে।

    ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’র অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল র‍্যালি, বাইক র‍্যালি ও পদযাত্রার আয়োজন করা হবে। এরপর ৭ অক্টোবর ‘সেবা যাত্রা’র মাধ্যমে বড় কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা সদরগুলির গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি বিভিন্ন জেলার মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন বলে জানানো হয়েছে।

    ‘সেবা মেরা যোগদান’ এবং ‘সেবা সেতু অভিযান’-এর আওতায় স্বচ্ছতা অভিযান, সাফাই কর্মসূচি, রক্তদান শিবির এবং আশা ও আইসিডিএস কর্মীদের যুক্ত করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    পর্যটন ও বন দফতরের যৌথ উদ্যোগে ‘রঙ্গোলি রাষ্ট্র’ কর্মসূচিতে প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে ১০৮ মিটার ব্যাসের ‘ভারত মণ্ডল’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে নিয়ে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ আয়োজন করা হবে। বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড-সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে মন্ত্রী ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিরা সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে গিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করবেন। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরকে এই কর্মসূচির নোডাল দফতর করা হয়েছে। আগামীকালই বিস্তারিত কর্মসূচির তালিকা ও ক্যালেন্ডার বিভিন্ন স্তরে পাঠানোর কথা রয়েছে।

    তবে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন বিধি কার্যকর থাকায় সেখানে সরকারি স্তরে এই কর্মসূচিগুলি পালন করা হবে না। নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে প্রশাসনিক আধিকারিকরা কোনও সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না। তবে রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত স্তরে স্থানীয় মানুষ কর্মসূচিগুলি পালন করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর দেবীপক্ষ শুরুর আগেই অধিকাংশ কর্মসূচি শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। বিশ্ব যোগ দিবস এবং ‘হর ঘর তিরঙ্গা’র মতো কর্মসূচির ধাঁচে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবারের কর্মসূচিও সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)