• SIT ডিপ্লোমা কলেজে অনুষ্ঠিত হল ইন্টারনাল হ্যাকাথন
    আজকাল | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সমস্যার সমাধান এবং প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগকে সামনে রেখে শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি ডিপ্লোমা কলেজে অনুষ্ঠিত হল Smart India Hackathon, 2026-এর ইন্টারনাল হ্যাকাথন।

    বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই উদ্যোগে নিজেদের ভাবনাকে বাস্তবসম্মত সমাধানে রূপ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে পড়ুয়ারা।

    এবারের ইন্টারনাল হ্যাকাথনে অংশগ্রহণ করেছিল একাধিক দল। প্রতিটি দলে ছিল ছ’জন করে সদস্য। জীবনের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তার সম্ভাব্য সমাধান এবং নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতি বিশেষজ্ঞদের সামনে উপস্থাপন করাই ছিল পড়ুয়াদের মূল পরীক্ষা।

    শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের পাশাপাশি এই হ্যাকাথন পড়ুয়াদের মধ্যে দলগত কাজ, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, সমস্যাকে বিশ্লেষণ করা এবং সমাধান তৈরির দক্ষতা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    শুধু প্রযুক্তি শেখা নয়, সেই প্রযুক্তিকে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, এই দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল উদ্যোগটির অন্যতম মূল লক্ষ্য। হ্যাকাথনের বিভিন্ন পর্যায়ে পড়ুয়ারা প্রথমে সমস্যার প্রকৃতি ও প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে।

    এরপর সম্ভাব্য সমাধানের ধারণা তৈরি, উপযুক্ত প্রযুক্তিগত পদ্ধতি নির্বাচন এবং প্রস্তাবিত সমাধানের বাস্তবায়ন যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করে।

    শেষ পর্যায়ে প্রতিটি দল তাদের প্রস্তাবিত সমাধান বিশেষজ্ঞদের প্যানেলের সামনে উপস্থাপন করে। প্রকল্পগুলির মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন বিশেষজ্ঞদের তিন সদস্যের একটি প্যানেল।

    প্যানেলে ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট অধ্যাপক ড. প্রশান্ত কুমার রায়। তাঁর ১০ বছরেরও বেশি অ্যাকাডেমিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ছিলেন ফিজিক্স বিভাগের সহ অধ্যাপক ড. সাগর দে। তাঁর পাঁচ বছরেরও বেশি অ্যাকাডেমিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    তাঁর সঙ্গে ছিলেন, এমসিএ বিভাগের সহ অধ্যাপক ড. টুম্পা মান্না। তাঁর ১৮ বছরের অ্যাকাডেমিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও মৌলিকত্ব, সমস্যা সম্পর্কে যথাযথ ধারণা, প্রযুক্তিগত পদ্ধতি, বাস্তবায়নযোগ্যতা, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, উপস্থাপনার দক্ষতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব, এই বিষয়গুলির ওপর জোর দেওয়া হয়।

    বিচারকমণ্ডলীর সদস্যরা প্রতিটি দলের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। পড়ুয়ারা তাঁদের প্রস্তাবিত সমাধান কতটা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারছেন, সমস্যাটির সঙ্গে সমাধানের সম্পর্ক কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হতে পারে, সেই বিষয়গুলিও মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি ডিপ্লোমা কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক অনিন্দ্য বসুর নির্দেশনা ও সহযোগিতায়। পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান করার মানসিকতা গড়ে তুলতে তাঁর উৎসাহ এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করে।

    হ্যাকাথনের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সমন্বয় করেন Smart India Hackathon-এর SPOC ড. প্রিয়দর্শিনী সাহা চৌধুরী। তিনি পড়ুয়াদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি Smart India Hackathon-এর বৃহত্তর উদ্ভাবনী পরিসরের সঙ্গে তাঁদের পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

    অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় ছাত্রছাত্রীদের উদ্ভাবনী ভাবনাগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলিকে আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    একইসঙ্গে, প্রযুক্তিকে শুধুমাত্র পাঠ্যবিষয় হিসেবে না দেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার দৃষ্টিভঙ্গি পড়ুয়াদের মধ্যে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি ডিপ্লোমা কলেজের এই উদ্যোগ প্রযুক্তি শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগের একটি মেলবন্ধন তৈরি করেছে। ভাবনা থেকে উদ্ভাবন, আর উদ্ভাবন থেকে বাস্তব সমাধান, এই ধারাবাহিকতায় SIH 2026-এর ইন্টারনাল হ্যাকাথন পড়ুয়াদের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য আরও প্রস্তুত করে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উঠে এসেছে।
  • Link to this news (আজকাল)