আজকাল ওয়েবডেস্ক: এই বিশেষ তিথিতেই সাধক বামদেব তারাপীঠে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। কৌশিকী অমাবস্যার পূণ্যতিথিতে প্রতি বছর বিপুল ভক্তসমাগম হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়। সকাল থেকেই মন্দিরে উপচে পড়েছে ভক্তদের ভিড়। বৃহস্পতিবার এই পূণ্যতিথিতে কালীঘাটের মা তারার মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজো দেওয়ার পর গ্রহণ করলেন মা তারার মহাভোগের মহাপ্রসাদও।
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সমাজমাধ্যমের পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্যতিথিতে মা তারার চরণে শতকোটি প্রণাম। মা তারার অশেষ কৃপায় সকলের জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক। দূর হোক সকল অশুভ ও অন্ধকার। তারা মায়ের আশীর্বাদ সকলের ওপর বর্ষিত হোক। সকলকে জানাই কৌশিকী অমাবস্যার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। জয় মা তারা।”
বৃহস্পতিবার সারাদিনের সরকারি কর্মসূচি সেরে এদিন সন্ধ্যার দিকে কালীঘাটের মন্দিরে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। তারা মায়ের কাছে গিয়ে পুজোও দেন তিনি। পুজো সেরে মায়ের ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করেন। এরপরে মন্দির চত্বরে উপস্থিত সকল ভক্তদের প্রসাদ বিলি করেন এবং মন্দির চত্বর ঘুরে দেখেন। এরপরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “যে দিন ভবানীপুরে আমার নাম ঘোষণা করা হয়, সেদিন মায়ের কাছে এসেছিলাম। সেদিন মা পদ্ম দিয়েছিলেন। সেই পদ্মই ফুটেছে রাজ্যে। মা সেদিন আমায় দায়িত্ব দিয়েছিলেন। মাকে মাছের মাথা-সহ যা যা ভোগে দেওয়া হয়েছিল তা-ই প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেছি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি যাতে সবাই ভাল থাকুক। অখণ্ড ভারত তৈরি হোক।”
বাগেশ্বর ধামের সন্ত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “একজন সাধু তাঁর মত প্রকাশ করেছেন। ইচ্ছে হলে কেউ গ্রহণ করবেন, না ইচ্ছে হলে করবেন না। আমিই পুষ্পাঞ্জলী দিই। অষ্টমীর দিন সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক আহার খাই। কার্ত্তিক মাসে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করি। আবার বাঙালি হিসেবে মাছ দিয়ে মাকে যে ভোগ দেওয়া হয়, সেটাও গ্রহণ করি। পাঁঠাবলির প্রসাদও গ্রহণ করি। আজ মায়ের মন্দিরে যে ভোগ দেওয়া হয়েছিল সেটাই আমি প্রসাদ গ্রহণ করেছি। মাছের মাথা ছিল, মাছ ভাজা ছিল, অনেক রকম পদ ছিল, সঙ্গে বাসন্তী পোলাও ছিল। জয় মা। মা ভাল রাখুক। সনাতন সংস্কৃতি জাগ্রত থাকুক। গেরুয়া ধ্বজ সবসময় উপরে থাকবে।”
এবছর কৌশিকী অমাবস্যার তিথি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১১ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। এবছর ভিড় সামলাতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৪ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে তারাপীঠ মন্দির ও মন্দির সংলগ্ন এলাকায়।