• ঝাড়খণ্ডে খুনের ঘটনায় কলকাতা যোগ! কী ঘটল জানেন?
    আজকাল | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঝাড়খন্ডের হোটেল ব‍্যবসায়ী নিখার সাবলোককে খুনের ঘটনায় মিলল কলকাতার যোগসূত্র। সূত্রের খবর, ঘটনায় কলকাতা পুলিশের এক সার্জেন্ট এবং এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঝাড়খন্ড পুলিশ।

    পুলিশের দলটি কলকাতায় এসে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই সার্জেন্ট এবং সিভিক ভলান্টিয়ার, দু’জনেই বর্তমানে বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত।

    দিনেদুপুরে ব‍্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় বেশ কয়েক জনকে ঝাড়খন্ড পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল গ্রেপ্তার করেছিল। তাঁদের সঙ্গে এই সার্জেন্ট এবং মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের কথোপকথন হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

    সেই সূত্র ধরেই এই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পড়শি রাজ্যের পুলিশ। ধৃতদের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের সার্জেন্টের কী যোগাযোগ তা জানার চেষ্টা চলছে। ধৃতদের মধ্যে কেউ কলকাতায় এসে আশ্রয় নিয়েছিল কি না তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করেনি কলকাতা পুলিশ।

    প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট সোমবার ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসওয়ান জেলার চান্ডিল থানা এলাকার আসানবনি-কান্ডেরবেরা অঞ্চলে ৩৩ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে টেন্থ মাইলস্টোন রিসর্টে গুলি করে খুন করা হয় জামশেদপুরের ৩৩ বছর বয়সী ব্যবসায়ী নিখার সাবলোককে।

    জানা যায়, মোটরবাইকে করে আসা তিন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছে। চান্ডিলের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শেও প্রকাশ কুমার বলেন, ‘দুপুর ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে কান্ডেরবেরা এলাকার টেন্থ মাইলস্টোন রিসর্টে জামশেদপুরের ব্যবসায়ী নিখার সাবলোককে লক্ষ্য করে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। ঘটনাস্থল থেকে ৮টি খালি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

    ঘটনার খবর পেয়ে চান্ডিল থানার পুলিশের পাশাপাশি জামশেদপুরের আজাদনগর, এমজিএম এবং উলিডি থানার ওসিদের নেতৃত্বে পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ব্যক্তিগত কাজে সোমবার টেন্থ মাইলস্টোন রিসর্টে গিয়েছিলেন নিখার।

    সেই সময় বাইকে চেপে তিন দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। রিসর্টে উপস্থিত নিখারের বন্ধু এবং অন্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে টাটা মেন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    জামশেদপুরের কদমা থানার অন্তর্গত অভিজাত বিজয়া হেরিটেজ রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে থাকতেন নিখার। হোটেল-সহ একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ঘটনার খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান।

    এই ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলেও তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়ায়। একইসঙ্গে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘তিনজন দুষ্কৃতী মোটরবাইকে করে এসে পরিকল্পিতভাবে নিখার সাবলোককে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তাঁর শরীরে মোট চারটি গুলি লাগে। দুটি মাথায় এবং আরও দুটি শরীরের অন্য অংশে। হামলার পর মোটরবাইকে করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।’

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ৩৩ নম্বর জাতীয় সড়কের কান্ডেরবেরা এলাকা থেকেই জামশেদপুরের তরুণ শিল্পপতি ২৪ বছরের কাইরভ গান্ধীকে অপহরণ করা হয়েছিল।

    তিনি শহরের বিশিষ্ট শিল্পপতি দেবাং গান্ধীর ছেলে। পরে অপহরণকারীরা বারহি-চৌপরন রোডের ধারে কাইরভকে ফেলে পালিয়ে যায়। সেই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই একই এলাকায় আর এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুনের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)