• অতনু দাসের গ্রেপ্তারির পরই সরব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি
    আজকাল | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাগেশ্বর কাণ্ডে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর গতকাল তাঁর বিরোধিতা করে বিবৃতি জারি করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তারপর মাঝরাতে কার্যত নজিরবিহীন ভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এক কংগ্রেস নেতা অতনু দাসকে। বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার সেই গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় নিন্দা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। জারি করেন একটি প্রেস বিবৃতিও।

    বিবৃতিতে শুভঙ্কর জানান, তাঁদের আশঙ্কাই শেষমেশ সত্যি হয়েছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে দমনপীড়নের রাজনীতি। তিনি বলেন, "গতকাল গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথাকথিত বাবা বাগেশ্বরের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখানো এবং তার ছবি পোড়ানোর দায়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি এই গ্রেপ্তারের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।"

    বিবৃতিতে শুভঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন করেন, "তথাকথিত বাবা বাগেশ্বর বাঙালিদের সম্পর্কে কটুক্তি করলেন, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে অপমান করলেন, তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হল না? যাঁরা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে কুৎসিত মন্তব্য করলেন, তাঁদের কেন গ্রেপ্তার করা হল না?"

    তাঁর বক্তব্য, "যাঁরা গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে বাঁচানোর স্বার্থে প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করা হচ্ছে।" তাঁর দাবি, এভাবে কারওর গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করা যায় না। তিনি জানান, এই ফ্যাসিস্ট শক্তির দমনপীড়ন নীতির কাছে কংগ্রেস কখনওই মাথা নত করবে না। বলেন, "অতনু দাসের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।"

    বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিস অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ড) বিল ২০২৬' নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বক্তৃতা করতে উঠেই কড়া নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, "আমাদের লিলুয়াতে একজন সন্ত এসেছিলেন। সন্তের মতোই তিনি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। ঐতিহ্য সংস্কৃতির কথা বলেছেন তাঁর মতো করে। যাঁরা গ্রহণ করার করবেন, যাঁরা করার নয় করবেন না। তিনি কারও উপর চাপিয়ে দিতে চাননি। আমি কতগুলো লোককে দেখলাম ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পুড়িয়েছে। এখান থেকে সিপি-কে বলছি, ওই লোকগুলোকে অ্যারেস্ট করতে হবে।"

    এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে চলছে পুলিশি তদন্ত।
  • Link to this news (আজকাল)